ঢাকা, ||

রাণীনগরে চড়ক খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঐতিহ্যবাহী মাধাইমুড়ির শিবের মেলা


ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

রওশন আরা পারভীন শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধি: লোহার শিক দিয়ে তৈরি বরশী পিঠে আর দু’পায়ে ফুটিয়ে প্রায় ৩০ ফুট উচুতে শ্যুন্যে ঘুড়ছে দু’জন । চারে দিকে আগত উৎসক দর্শনার্থী আর ভক্তদের হাত তালি এবং হৈ হুল্লর করে উৎসাহ যোগায় চড়ক খেলাকারীদের । শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী শিবের মেলা উপজেলার মাথাইমুড়ি গ্রামে গত সোমবার অনুষ্ঠিত হয় চড়ক খেলা । আর এ খেলার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করা হয় তিন দিনের শিবের মেলা । স্থানীয় সুত্রে মতে, শতবর্ষী এ মেলা প্রতিবছর একই দিকে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে । মেলাকে ঘিরে এলাকা ভরপুর হয়ে উঠে আতœীয় স্বজনের কোলাহলে । মেলার শেষ দিনে দুপুরের পর থেকেই দলে দলে আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা, মহিলা-পুরুষ মাধাইমুড়ি শিব ও কালী মন্দীর প্রাঙ্গনে উপস্থিত হতে থাকে। বিকেল ৫ টার দিকে শুরু হয় চরক পূজার প্রস্ততি পর্ব। ৩০ ফুট উঁচু একটি শিশু গাছের মাথায় বাঁশ দিয়ে চরকী তৈরি করে তার এক মাথায় পূজারীর পিঠে বরশী ফুটিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। একই বাঁশের অপর মাথায় দড়ি বেঁধে সে দড়ি গাছের নীচের দিকে আর একটি বাঁশ বেঁধে তার মাথায় বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর ৭-৮ জন লোক মিলে নিচের বাঁশ ধরে সজরে ঘোরাতে থাকেন। তার পিঠে ও পায়ে বরশী ফুটিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া লোকটি চরক গাছে ঘুরতে ঘুরতে বাতাশা (চিনির তৈরী মিষ্টি) ছিটাতে থাকেন। ভক্তরা সে বাতাশা খুটে খুটে খান। অবশ্য অনেকেই খেলার দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে মেলা থেকে চলে যায় ।চরক খেলাকারী সুশান্ত (৩৫) তিনি রাজশাহী জেলার মতিয়া থানার বিলসিমলা গ্রামের ও অজিদ চন্দ্র প্রামানিক বগুড়া জেলার নাগরকান্দি গ্রাম থেকে এসছেন খেলা দেখাতে। তারা জানান, এর আগেও এ বছর তারা বিভিন্ন এলাকায় ৩ বার চরক গাছে ঘুরছেন। এ বছর এমনিতেই মাধাইমুড়ি গ্রামে চরক গাছে ঘুরতে এসেছেন। তারা জানান,নাটোর জেলার সিংড়া থানার হাতিন্দা গ্রামের বাবুল চন্দ্র সরকার (সন্নাসী) কাছে খেলা শেখা । শিক্ষাগুরু বাবুল সরকার জানান, সখ করে তারা আমার কাছ থেকে এ খেলা শিখেছেন। এ মেলায় স্থানীয় ঠাকুর নারায়ন চন্দ্র চরক পূজার প্রধান পুরোহিত। তার সহযোগী চন্দন জানান, গত বছর পূজার শেষে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখা চরক গাছটি (শিশু গাছ) আগের দিন রাতে তোলা হয়। তারপর থেকে চলে পূজা অর্জনা। চরক গাছটি যে গর্তে স্থাপন করা হয় সেখানে আগে পূজা দেওয়া হয়। তারপর চরক গাছের মাথায় বাঁশের চরকীতে পূজারীকে তুলে দেওয়ার আগে তাকে শীব-কালীর মন্দিরে নিয়ে ঠাকুরের মন্ত্রপাঠের সাথে সাথে তার পিঠে লোহার শিক দিয়ে তৈরি বরশী ফুটিয়ে তাতে দড়ি বেঁধে চরক গাছে ঝুলানো হয়। পূজার শেষে চরক গাছটি আবার পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয়। গত শনিবার থেকে শুরু হয়ে গত সোমবার চরক খেলার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করা হয় । মেলায় আগত নিপেন্দ্রনাথ (৬০) জানান,মেলাটিতে আমার দাদার হাত ধরে ছোট বেলা থেকেই আসতাম । আগে এমেলার অনেক যৌলুস ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে মেলাটি ছোট হয়ে আসছে । ওই গ্রামের নুরুল হোসেন জানান,মেলাকে ঘিরে আগে যে উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল বর্তমানে কিছুটা কমে গেছে । তাছাড়া যেখানে মেলা বসে সেখানে জায়গারও অনেক সংকিরনতা দেখা দিয়েছে । #

Top