ঢাকা, ||

রাজধানীতে লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়বে


মতামত

প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০১৬

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

৩০ লক্ষাধিক ব্যাচেলরের বাস রাজধানীতে। তাদেরকে যদি বাসা ভাড়া না দেওয়া হয় কিংবা বাসা থেকে বিতাড়িত করা হয় তবে তার পরিনাম কি হবে, তা কেউ ভেবে দেখেছেন ? জঙ্গিদের কর্মকান্ডের চেয়েও সে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ইচ্ছা করলেই ব্যাচেলররা বিবাহ করতে পারে না কিংবা রাজধানী ত্যাগ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই তাদেরকে যদি বাসা ভাড়া দেওয়া না হয় কিংবা বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হয় তবে তাদের দ্বারা সৃষ্ট আতঙ্ক যে জঙ্গিবাদের চেয়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে তাতে কোন সন্দেহের লেশমাত্র অবশিষ্ট নাই। কেননা যে কোন উপায়ে তাদেরকে রাজধানীতে টিকে থাকতে হবে। অনেক বাড়ীওয়ালা ব্যাচেলর শব্দ শুনলেই যেন বৈদ্যুতিক শকানুভব করেন। তাদের হাবভাব দেখলে মনে হয় তারা কখনো ব্যাচেলর ছিলেন না। এসব বিচিত্র মানুষের আচারণ বটে।
লক্ষাধিক ব্যাচেলর মেসের মধ্যে মাত্র দুই-পাঁচটা ম্যাচের ছেলেরা বেআইনি কাজের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে গোটা ব্যাচেলর রাজ্য ভ্রষ্ট হয়েছে বলে যারা মনে করে তারা নিজেরাই নিশ্চিতভাবে ভ্রষ্ট। প্রয়োজনীয় সকল প্রমাণ গ্রহন করে এবং রাষ্ট্রীয় শর্ত পূরণ করে ব্যাচেলরদের কাছে বাসা ভাড়া দিতে আপত্তি কোথায় ? যে সকল বাসার মালিক ব্যাচেলদের সাথে খারাপ আচরণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রের চোখ থাকা উচিত। কেননা আজকে সর্বমহলের যারা হর্তা-কর্তা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড তালাশ করলে কোথাও না কোথাও তাদের ব্যাচেলর জীবনের ইতিবৃত্ত জুটে যাবে। সেদিনগুলোর কষ্ট, মজা নিমিষেই স্মৃতির সদরে উপস্থিত হবে। কাজেই ব্যাচেলররা যাতে কোনভাবে হ্যারাস না হয় সে ব্যাপারে রাষ্ট্রের আলাদ কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকা আবশ্যক। যে কোন আবাসিক বিল্ডিংয়ের অন্তত একটি তলা ব্যাচেলদের কাছে ভাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
বর্তমান সময়ে ব্যাচেলরদেরকে যেভাবে উৎপীড়িত করা হচ্ছে তাতে এ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয়ের সূচনা প্রবল হওয়া স্বাভাবিক এবং সেজন্য দায়ী হবে রাষ্ট্র এবং বাড়ীওয়ালাবৃন্দ। কেননা ব্যাচেলররা তাদের স্বপ্নকে জিইয়ে রাখতে যেকোন পদ্ধতি আঁকড়ে ধরে রাজধানীতে টিকে থাকতে চাইবে। তাদের সামনের সকল সহজ পথগুলো যখন রুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন সে অবশ্যম্ভাবীভাবে অনৈতিক পথে হাঁটবে। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য তখন যদি ব্যাচেলরা কথিত দম্পতির নামে লিভ-টুগেদারের আশ্রয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে কিছু একটা ঘটায় তখন তার দায় কে নেবে ? শুধু কি এই এক প্রকারের অঘটন ? বেশি ভাড়া পরিশোধ করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই বেশি আয় করতে হবে। তখন তারা নীতি-নৈতিকতাকে পায়ে মাড়িয়ে অনৈতিক পথে হাঁটবে। নিজেদের সাথে সাথে ধ্বংসের ঘন্টা বাজাবে রাষ্ট্রের বুকেও। একটি মাত্র সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তখন জন্ম হবে আরও অজ¯্র সমস্যা।
ব্যাচেলরদেরকে যাতে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে দেয়া হয় তার বিহীত বিধান করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। যে সকল বাড়িওয়ালা ব্যাচেলর শব্দ শুনলেই নাক সিঁটকান তাদেরও ভাবা উচিত, তারাও কোন না কোনকালে এমন ব্যাচেল ছিলেন। ব্যাচেলর না থাকলেও তারা তো সর্বোপরি মানুষের পরিচয়ে পরিচিত। সম্পদের দম্ভ দেখিয়ে কিংবা জিম্মি করে কোন মানুষকে কষ্ট দেয়াটা কোনভাবেই যৌক্তিক কর্ম হতে পারে না। রাষ্ট্রের সকল রীতি-নীতি মেনেই ব্যাচেলরদের কাছে বাসা ভাড়া দেওয়ার মানসিকতা রাখা উচিত। তারপরেও অন্তত ব্যাচেলর শব্দটা শুনলেই দরজার খিল লাগিয়ে দেয়ার প্রবনতা দেখাবেন না। মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, দয়া, করুনা দেখানো তো মানুষের-ই কাজ। কারো অসহোযোগীতায় যদি কোন অন্যায় কাজ সংঘটিত হয় তবে সে অন্যায়ের দায় নিশ্চিতভাবে তার ওপরেও বর্তায়। ব্যাচেলরদের দুর্দিনে যারা তাদের পাশে দাঁড়াবে নিশ্চয়ই তাদের নাম ব্যাচেলদের হৃদয়ে শ্রদ্ধার অক্ষরে লিখিত থাকবে। ব্যাচেলরদেরকেও বলি, বাড়িওয়ালাদের সাথে এমন কোন আচরণ করো না যাতে তারা তোমাদের ওপর বিতৃষ্ণা হয় এবং চিরজীবনের জন্য ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

Top