ঢাকা, ||

যারা জিপিএ-৫ পায়না তারা কি প্রতিষ্ঠিত হয়না, জানতে চান নূর


নারী ও শিশু

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

 সোহানুর রহমান:  ‘সন্তানদের উপর কোচিং আর বই এর বোঝা চাপিয়ে দিয়ে ভালো পাশ করানো যেতে পারে কিন্তু ভালো মানুষ বানানো যায় না। মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে কখনো জ্ঞান অর্জন করা যায় না। আমাদের সন্তানরা জিপিএ-৫ পাওয়ার নির্যাতনের ফলে দিন দিন রোবট হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন  যদি বেহালা বাজাবার সময় পেত তাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কেন বই পড়ার সময় পাবেনা ?’
রোববার বেলা ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর জেলা স্কুলের মাঠে “চেতনার জাগরণে বই” স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া সপ্তাহ ব্যাপী বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ কথা বলেছেন।

বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, যারা জিপিএ-৫ পায়না তারা কি প্রতিষ্ঠিত হয়না?  আমরা দানবের সমাজ গড়তে চাইনা, চাই মানবের সমাজ গড়তে। আমাদের সমাজ ব্যাবস্থার কারনে আজ আমাদের সন্তানরা জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ সৃষ্ঠির পাশাপাশি বিপদগামী হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বই হচ্ছে জ্ঞানের ভান্ডার। বই পড়লে রুচি, জ্ঞান এবং মেধার বিকাশ ঘটে। তাই প্রত্যেকেরই উচিৎ বই পড়াকে অভ্যাসে পরিনত করা। বর্তমান সরকার শিক্ষা এবং সংস্কৃতি বান্ধব সরকার। তাই শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে, বরিশাল জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহযোগিতায় শুরু হওয়া মেলায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল রেঞ্জ এর ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক উপসচিব মোঃ নজরুল ইসলাম।

এর পূর্বে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর-এমপি ফিতা কেটে এবং বেলুন- ফেস্টুন উড়িয়ে বরিশাল বিভাগীয় বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

 

এসময় তিনি বলেন, একটি বই মেলা শুধু বই বিক্রি’র জন্য নয়। এটিকে জ্ঞান উপার্জনের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এ মেলার  মধ্য দিয়ে পাঠক ও ক্রেতা তাদের সুবিধামত পছন্দের বইটি বেছে নিতে পারবেন। আর তাই এ ধরনের আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টের প্রতি ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেছেন মন্ত্রী।

তাছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন ও নৃত্য পরিবেশন করে বরিশাল শিল্প কলা একাডেমীর শিল্পিরা। পরে প্রধান অতিথি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুড়ে ঘুড়ে পরিদর্শন করেন।

শুরু হওয়া বই মেলায় ঢাকা দেশে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে মোট ৫১টি প্রকাশনী সংস্থা তাদের বই নিয়ে অংশগ্রহন করেছে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে। মেলায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ইভেন্টে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা ধরনের আয়োজন থাকছে।

Top