ঢাকা, ||

মাহির বিয়েটা টেকা দরকার


এক্সক্লুসিভ

প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৬

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

ঢাকা: সপ্তাহ পেরোলো না বিয়ে হলো, আর এখনি শিরোনাম দেয়া হচ্ছে ‘বিয়েটা টেকা দরকার’! অলুক্ষুণে কথা মনে হতে পারে।

তা কিছুটা অলুক্ষুনে মনে হোক। তবুও কায়মনোবাক্যে কামনা করতেই হচ্ছে- চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির বিয়েটা টিকে যাক।

গত বুধবার সিলেটের ছেলে পারভেজ মাহমুদ অপুকে বিয়ে করেন মাহি। বিয়ের দু’দিনের মাথায় অনলাইন দুনিয়ায় ঝড় ওঠে মাহির আগের বিয়ের প্রসঙ্গে। বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে, বিশেষ করে ফেসবুকে কেউ কেউ দাবি করেন- এটা মাহির তৃতীয় বিয়ে। এর আগে কমপক্ষে দুইটা বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই বিয়ের পক্ষে প্রমাণস্বরূপ ছবি-টবিও প্রকাশ করছেন দাবি উত্থাপনকারীরা। অনেকে আগ বাড়িয়ে বলছেন- কয়দিন টেকে দেখো!

এ নিয়ে তারপর কোনো কথা বলেননি মাহি। তবে সমালোচনা সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছিল হয়ত। সে কারণেই অবশেষে মুখ খুললেন তিনি। সাংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশ হচ্ছে, তা ভূয়া। তিনি অপুকে বিয়ে করে সুখে আছেন। এই সুখ সহ্য হচ্ছে না অনেকেরই। তাই ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার বিরুদ্ধে। তিনি ষড়যন্ত্রকারী এবং মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলার হুমকিও দিয়েছেন।

আপাতত ‘মাহিয়া মাহি’ বনাম ‘ষড়যন্ত্রকারী’ যুদ্ধটা এ পর্যন্তই এগিয়েছে। সামনে এ যুদ্ধের আরো রূপ-রস হয়তো দেখা যাবে। তবে তার আগেই এই ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্র খেলা থেকে বেরিয়ে যাওয়া যাক।মূল আলোচ্য  অন্য জায়গা।

মাহির বিয়েটা টেকা দরকার
তাহলে কি বিয়েটা না-টেকার সম্ভাবনা আছে? অবশ্যই আছে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শোবিজ অঙ্গনের সুপারস্টারদের বিয়ে টেকা-না টেকার সম্ভাবনা সমান সমান। বিশেষ করে মাহিয়া মাহি, যার বিয়ের দেইদিনের মাথায় আরো দুইখানা বিয়ের গুজব চাউর হয়ে গেছে প্রমাণসহ, তার বেলায় না টেকার সম্ভাবনা  প্রবল শক্তি নিয়ে উঁকি দেয়।

তবে শুধু সে কারণেই বিয়েটা টেকা প্রয়োজন, ব্যাপারটা তেমন নয়। শোবিজ তারকাদের একাধিক বিয়ের ইতিহাস অজস্র রয়েছে।ইন্ডাস্ট্রিতেও অনেক উদাহরণ আছে। বিয়ে ব্যাপারটা কোনো ক্রাইমের মধ্যে পড়ে না। যদি যথাযথ প্রসেস মেনটেন করে বিয়ে করা হয়ে থাকে। তাহলে একটা, দুইটা, তিনটা কিংবা আরো বেশি বিয়ে করলেও সেটা সমস্যা তৈরি করে না। সমস্যা হলো শোবিজ অঙ্গনের নায়িকাদের বিয়ে না টেকার একটা চল তৈরি হয়ে গেছে। বিশেষ করে গত দশক ধরে শোবিজ অঙ্গন প্রতিনিধিত্ব করা টেলিভিশন মিডিয়ার নায়িকাদের কথা বলতে হয়। পরপর বেশ কয়েকজন শীর্ষ টিভি অভিনেত্রী টপাটপ বিয়ে করলেন আর ডিভোর্স করলেন। তাদের বিয়ের হাসিমুখ মিলিয়ে যেতেই ডিভোর্সের বিষাদমুখ দেখা গেল।

এটা ভালো কথা না। ভালো লক্ষণ না।সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে ব্যাপারটা একেবারেই যায় না। হ্যাঁ, জীবনের প্রয়োজনে বিয়ে-ডিভোর্স হতেই পারে। কিন্তু শোবিজ তারকাদের চোখে পড়ার মতো সংখ্যা যদি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে আসেন, তাহলে সেটা খারাপ উদাহরণ। সমাজে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।বিয়ে-ডিভোর্স সাধারণের কাছে তখন ডাল-ভাত মনে হয়। মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায়। মূল্যবোধ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

মাহিয়া মাহি দেশীয় চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়িকা। তার সঙ্গে যা হবে- সেটা সমাজের সবার দৃষ্টি কাড়বে। সেজন্যই জোর দিয়ে বলা- মাহির বিয়েটা যেন টিকে যায়। যদি না টেকে, তাহলে এই না টেকাও সমাজে উদাহরণ হয়ে যাবে। তখন সমাজে একাধিক বিয়ের পরও সংসার ভেঙে গেলে মাহিয়া মাহির উদাহরণ টানতে চাইবে। সংসার ভাঙার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করতে চাইবে।

তাছাড়া মাহিয়া মাহির বিয়েটা টিকে যাওয়ার দরকার শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রীক স্বার্থে। শোবিজ অঙ্গনের মানুষকে সাধারণ মানুষেরা অনেক সময় বাঁকা চোখে দেখেন এই একাধিক প্রেম-বিয়ের কারণেও। মাহিয়া মাহির বিয়ে যদি টিকে যায়, তাহলে সাধারনের কাছে শোবিজ তারকাদের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও বাড়বে।

না হলে নতুন কারো বিয়ে হলে মানুষ বলতে থাকবে-  বিয়েটা কয়দিন টেকে দেখো!

Top