ঢাকা, ||

মাহামুদিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষিত!


অপরাধ

প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

বরিশাল: এবার বরিশাল নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম পারভেজ সাজ্জাতের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে দুইবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেতাব পাওয়া নগরীর মাহমুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম পারভেজ সাজ্জাতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শিক্ষা কার্যালয়ে ওই অভিযোগ করেছেন সহকারি নারী শিক্ষকরা।

এদিকে শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে গত বৃহষ্পতি এবং শুক্রবার দুইদিন থানায় রেখে প্রধান শিক্ষক এসএম পারভেজ সাজ্জাতকে স্কুল শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থী শ্লিলতাহানির অভিযোগ করলেও তারা চলে যাওয়ার পর তা অস্বীকার করেছে দাবি পুলিশের। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সামনে অভিভাবকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকদের ডাকা হয়েছিল। প্রথম দিন স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ করলেও পরে তা অস্বীকার করেছে।

এদিকে ওই বিদ্যালয়ের আট নারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক এসএম পারভেজ সাজ্জাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত ৭ আগস্ট দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাত তাঁর মুঠোফোনে থাকা পর্নো ছবি সহকর্মী নারী শিক্ষকদের দেখিয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁর অনৈতিক আচরণের কারণে নারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে শিক্ষক কক্ষে থাকেন না। তিনি নারী শিক্ষকদের সঙ্গে নানা রকম অশোভন আচরণ করেন। তার অপকৃতির কাছে শিক্ষার্থীরাও রেহাই পায় না। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে থানা পুলিশ হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায় নারী শিক্ষকরা।

সোমবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে নারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাদের তাঁর কথা মত চলতে হুমকী দেন। তাঁর মুঠোফোনে রাখা পর্নো ছবি দেখিয়ে শ্লিলতাহানীর চেষ্টা করেছেন। তাঁর প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় দেখে নেওয়ারও হুমকী দেন। আগস্টের ৩ তারিখ পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ওই শিক্ষার্থী তাঁর শ্রেণি শিক্ষককে জানায়। এ ঘটনায় গত বৃহষ্পতিবার রাতে কাউনিয়া থানা পুলিশ প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় পুলিশ তাদেরও (নারী শিক্ষক) ডেকে নেয়। তাঁদের সামনে শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ করে।

নারী শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাত নানাভাবে হুমকী দিচ্ছেন। তাঁর এক পুলিশ কর্মকর্তা আত্মীয় আছে। তার মাধ্যমেও প্রভাব বিস্তার করছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ধর্ষণের কথা আমাদের সামনে স্বীকার করেছে শিক্ষার্থী। পরে হয়তো চাপে পড়ে শিক্ষার্থী তা অস্বীকার করেছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন জাহান বলেন, আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেননি। তবে উপ-পরিচালকের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এব্যাপারে তাঁদের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা থেকে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠিয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরি করে উপ-পরিচালকের কাছে দিয়েছেন তারা। উপ-পরিচালক ছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না বলেও জানান তিনি।

এব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম ফারুকের মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করে পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। এরপর আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এসএম পারভেজ সাজ্জাত বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোন সহকর্মী নারী শিক্ষককে পর্নো ছবি দেখাইনি। শিক্ষার্থী ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে থানায় নিয়েছিল। সেখানে শিক্ষার্থী ঘটনা অস্বীকার করেছে। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটা চক্র এ কাজ করছে।
উল্লেখ এই প্রধান শিক্ষক ২০১৫ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এর আগে তিনি নগরের অন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সেখানে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাকে এই বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়।-বরিশাল ট্রিবিউন

Top