ঢাকা, ||

মঠবাড়িয়ায় পতিত জমিতে সূর্যমূখির আবাদ করে লাভবান


কৃষি ও প্রকৃতি

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০১৬

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

মঠবাড়িয়ায় কৃষকরা পতিত জমিতে সূর্যমূখির আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। গত দুই বছর আগেও মঠবাড়িয়ায় সূর্যমূখির আবাদে কৃষকরা আগ্রহী ছিলেন না। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের অন্তত ৬টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক কৃষক অনবাদি ও পতিত জমিতে এবার সূর্যমূখির পরিকল্পিত ভাবে আবাদ করেছেন। উপজেলার টিকিকাটা, গুলিসাখালী, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা, বড়মাছুয়া ও বেতমোর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা সূর্যমুখি আবাদ করে এবার সম্ভাবনা দেখছেন ।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, এবার উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ২৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা সূর্যমুখির আবাদ করেছেন। তবে উপজেলায় কৃষি বিভাগ ৮ প্রদর্শনী প্লটে কেবল বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে স্ব উদ্যোগে আরও ৩০০ কৃষক তাদের অনাবাদি জমিতে এবার সূর্যমুখি আবাদ করেছেন। এটা এ উপকূলে নতুন ধরনের ফসল। ফলন ভাল ও লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকদের সূর্যমুখি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। হেক্টর প্রতি ৩ থেকে সাড়ে ৩ টন সূর্যমুখি ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যমুখি মূলত একটি উৎকৃষ্ট তেল ফসল। সূর্যমুখির বীজ ফসল থেকে বিশেষ তেল তৈরী হয়। এতে তেলে ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নেই। আমাদের দেশে সূর্যমুখির উল্লেখযোগ্য দুইটি জাত রয়েছে যেমন, কিরনী(ডিএস-১), বারি সূর্যমুখি-২। এছাড়া সম্প্রতি হাইসন-৩৩ হাইব্রীড জাতের সূর্যমুখির আবাদ করেছেন এবার মঠবাড়িয়ার কৃষকরা। সূর্যমুখি বীজে তৈল উৎপন্ন হয়। যা মানবদেহ ভোজ্য ও নানা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। এ তেল উপাদেয় বলে বেশ চাহিদা রয়েছে। দিনদিন এ তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর আবাদও সম্প্রসারণ হচ্ছে।উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের চরকজাছিয়া গ্রামের সূর্যমুখি চাষী জাকির দরজি, ভাইজোরা গ্রামের পনু পাহ্লোহান, তাফালবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেন খোকন জানান, সূর্যমুখি একটি লাভজনক ফসল। অনাবাদি জমিতে খুব সহজেই সূর্যমুখির আবাদ করা সম্ভব। এটি মৌসুমে কৃষকের বাড়তি আয় বর্ধক ফসল।গুলিসাখালী কৃষি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হরষিত চন্দ্র কীর্তুনীয়া বলেন, অনবাদি জমিতে এবার কৃষকরা সূর্যমুখি আবাদ করে এ ফসলের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন। এর দেখাদেখি অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে এলাকায় সেচ সংকট থাকায় চাষে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, সূর্যমুখি আবাদে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এলাকার কৃষকরা সূর্যমুখি চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। ফলে চাষীরা এর আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

Top