ঢাকা, ||

বিষণ্ণতায় মেজাজ চড়া হয়


উপরের চার নিউজ

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

জীবনে চলতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। কখনো নিজের অজান্তেই মন খারাপ হয়ে যায়। আর তখনি ভর করে বিষণ্ণতা। এই বিষণ্ণতা অল্প সময়ের জন্য তো হতেই পারে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখনই যখন বিষণ্ণতা দীর্ঘ সময়ের জন্য আসে। বিষণ্ণতাকে কেবল মন খারাপ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।এটি অনেক সময় আমাদের শরীর, মেজাজ ও কাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।বিষণ্ণতার কারণে কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, মেজাজ সবসময় চড়া থাকে। তাই এটি দূর করার জন্য আপনাকেই নিতে হবে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ।বিষণ্ণতা দূর করার কিছু উপায় রইল আপনার জন্য।ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো
বিষণ্ণতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে যে সমস্যা সেটি হলো হতাশা। হতাশাকে ঝেড়ে ফেলতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো নেতিবাচক পরিস্থিতি প্রত্যাহার করা। এক্ষেত্রে এমন মানুষকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে হবে যারা সবসময় ইতিবাচক কথা বলেন। ইতিবাচকতা একটি অভ্যাসের বিষয়ও বটে। আবার নিজের ভাবনার উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। পত্রিকার শুধু ভালো খবরগুলো পড়তে হবে। ভালো সিনেমা দেখতে হবে। হাস্যরসাত্মক টিভি শো দেখতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম
বিষণ্ণতার প্রথম এবং প্রধান কারণ হলো ঘুমের অভাব। আপনাকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। ঘুমের ব্যাঘাত শুধু আমাদের শারীরিকভাবেই ক্ষতি করে না, এটা তৈরি করে মানসিক অবসাদ এবং বিষন্নতা। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে বিষণ্ণতা দূর করা অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস
সঠিকভাবে খাদ্যগ্রহণ এই রোগ অনেকটা কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবারের অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে আর তাই তারা ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার খেতে বলেন বেশি করে।

মন ফ্রেশ রাখুন
বিষণ্ণতায় ভুগছেন কিন্তু ভবিষ্যতে এমন ডজন ডজন ঘটনা ঘটতে পারে যেটা সম্পর্কে আপনার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই আর তাই বিষণ্ণতা থেকে বের হয়ে মনকে রাখতে হবে উৎফুল্ল। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হোন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করুন, সময় ব্যয় করুন। এমন হতে পারে এদের সঙ্গে মিশে এতটাই আনন্দিত হবেন যে আপনি কল্পনাও করতে পারেননি। আপনার দিনগুলো হয়ে ওঠতে পারে আনন্দময়। অতএব আনন্দময় মুহূর্তগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ হোন।

দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করুন
আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করুন এবং সেটা দীর্ঘমেয়াদী হতে হবে। আজ থেকে ৫ বছর পরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কি করা উচিৎ, সেগুলা নিয়ে ভাবুন। পরিকল্পনা মতো এগুলে বিষণ্ণতা গ্রাস করবে না।

বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটান
কাজের ফাঁকে কিছু সময় বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে পারেন কিংবা আপনার পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন।দেখবেন বিষণ্ণতা আপনার কাছে আসবে না।আমরা সামাজিক জীব, বেঁচে থাকতে হলে আমাদের সবার সঙ্গে মিশতে হবে। যারা হাসিখুশি থাকেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে যান, তাদের বিষণ্ণতা কম হয়।

প্রকৃতিকে ভালোবাসুন
আপনি যখনই চান তখনই বাইরের জগৎটাতে পা রাখতে পারেন এবং অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। প্রকৃতি আমাদেরই নিজস্ব সম্পদ। আমরা যখন চাই তখনই তা উপভোগ করতে পারি। আমাদের সবারই প্রকৃতির সঙ্গে এমন একটি সংযোগ আছে যা আমাদের মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এমন যদি হয় যে, আপনি আপনার আশেপাশে মানুষগুলোরপ্রতি হতাশ তবে তাদেরকে কয়েকদিনের জন্য দূরে সরিয়ে প্রকৃতিকে কাছে টেনে নিতেই পারেন।

Top