ঢাকা, ||

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষনা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তি


ক্যাম্পাস

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

 

অনুসন্ধানী রির্পোট : মৌলিক রচনা হিসেবে দাবিকৃত যে কোনো রচনায় চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় গ্রহণ একটি অনৈতিক ও ন্যাক্কারজনক কাজ। কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অন্যের রচনা থেকে হুবুহু কপি করে নিজেদের লেখায় যুক্ত করছেন মূল রচনার রেফারেন্স না দিয়ে বা রেফারেন্স দেয়ার স্বীকৃত নিয়মের তোয়াক্কা না করে। ইন্টারনেট প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের কারণে আজকাল কারও রচনায় চৌর্যবৃত্তি খুঁজে বের করা অনেক সহজ হয়ে এসেছে। এ সংক্রান্ত সফ্টওয়্যার আজকাল পাওয়া যায় হাতের কাছেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থায় কর্মরত অনেকের রচনাতেই চৌর্যবৃত্তির খবর এখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান-মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মতে, “শিক্ষকতা ও গবেষণা একটি অন্যটির হাত ধরে এগিয়ে চলে। শিক্ষকদের পদায়নের ক্ষেত্রে প্রকাশনা ও গবেষণা বাধ্যতামূলক হওয়ায় কিছু শিক্ষক অনেক সময় চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নেন।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ ধরনের প্রচুর ঘটনা ঘটছে” ( আশার বিষয় হচ্ছে যে বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চৌর্যবৃত্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ২০১৬ সালে রেকর্ড সংখ্যক ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে মাস্টার্সের রিসার্চ মনোগ্রাফে চৌর্যবৃত্তির দায়ে প্রত্যেককে ২০০০০ (বিশ হাজার) টাকা করে সর্ব মোট ১১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক ড. আ জ ম কুতুবুল ইসলাম নোমানীকে ২০১৬ সালে অন্যের গবেষণাপত্র থেকে হুবহু নকল করা ও একই গবেষণা নিবন্ধ দুই জার্নালে ছাপানোর অভিযোগের প্রমাণ মেলায় সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়। চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আবু সায়েমকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে তদন্তপূর্বক ওই শিক্ষককে দুই বছরের জন্য বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এক্ষেত্রে আশার চেয়ে হতাশার খবরই বেশি।

কারণ, এ ধরণের প্রচুর অভিযোগ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতারত অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাওয়া গেলেও খুব কম ক্ষেত্রেই তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। আর পদের অবনমন বা আর্থিক দণ্ড এ ধরণের ঘৃণিত অপরাধের ক্ষেত্রে কতটুকু যথেষ্ট তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে আর্থিক দণ্ড প্রদান প্রসঙ্গে আইন অনুষদের তদকালীন ডিন অধ্যাপক তাসলিমা মনসুর বলেন যে, “এতো গুরুতর একটি অপরাধের জন্য আমরা তাদেরকে কম শাস্তিই দিয়েছি”। প্রায়শঃই এমন হয় যে এসমস্ত অভিযোগের অধিকাংশই নানা কারণে ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে, তদন্ত বা শাস্তির প্রশ্নও অবান্তর থেকে যায়। ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য নিয়োগের মৌখিক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নিয়োগের সাক্ষাৎকার বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স. আরেফীন সিদ্দিক, অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, উপাচার্য, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. হেলালউদ্দিন খান শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ডীন (তদকালীন) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক শাহীন আহমেদ, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এবং অধ্যাপক ড. ফরিদউদ্দিন আহমেদ। এই নিয়োগের একজন পদপ্রার্থী ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন। নিয়োগ বোর্ডের অন্যতম সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ড. নাসির উদ্দিনের জমা দেয়া বিভিন্ন প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রমানসহ দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যদিও নিয়োগ বোর্ড ড. নাসির উদ্দিনকে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য অযোগ্য মনে করেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে এ ব্যপারে কেউ কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন না করায় ড. নাসির উদ্দিন আজও বহাল তবিয়তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করে যাচ্ছেন। আমাদের প্রতিনিধির কাছে খবরটি আসার পর, পরই আমরা এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করি। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে আসে তা শুধু উৎকণ্ঠারই নয়, জাতির ভবিষ্যতের বিবেচনায় চরম আশংকাজনক। ড. নাসিরের বিভিন্ন প্রবন্ধের কপি এবং যে সমস্ত লেখা থেকে তিনি চুরি করেছেন সেই মৌলিক লেখাগুলোর কপি এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। ড. নাসিরের চৌর্যবৃত্তির বদভ্যাসের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র জীবনের সমাপ্তির পরপরই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র থাকাকালীন ড. নাসির মহেশখালীর জেলে সম্প্রদায় নিয়ে তার থিসিস রচনা করেন। মাস্টার্স পাশ করেই তিনি এই থিসিসকে একটি পুস্তক আকারে প্রকাশ করেন। এই পুস্তকে ড. নাসির উদ্দিন তারই শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক সাইফুর রশিদের প্রবন্ধ থেকে ব্যপক চুরির মধ্য দিয়ে চৌর্যবৃত্তির জগতে পা রাখেন।

২০০০ সালে প্রকাশিত ড. নাসিরের The Fisherman Community of Moheshkhali Island: An Anthropological Study (Published by Environmental Conservation Management Centre (ECOMAC)) শিরোনামের পুস্তকটির প্রথম পাতার ১ম প্যারাগ্রাফের প্রথম ১২ সারি নেয়া হয়েছে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Social Science Review এর Vol. XVI, Number 1 এ প্রকাশিত অধ্যাপক ড. সাইফুর রশিদের প্রবন্ধ Anthropology of Fishing: Some Conceptual and Theoretical Issues এর প্রথম প্যারাগ্রাফের ১-১০ সারি থেকে। প্রথম প্যারাগ্রাফের শেষ ৫ সারি চুরি করা হয়েছে অধ্যাপক ড. সাইফুর রশিদের প্রবন্ধের প্রথম প্যারাগ্রাফের শেষ ৪ সারি থেকে। ড. নাসিরের পুস্তকের ৩৭ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ ২য় প্যারাগ্রাফটি চুরি করা হয়েছে ড. রশিদের প্রবন্ধের ৩৮৯ পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ১ম ৮ সারি থেকে। ড. নাসিরের পুস্তকের ৩৭ পৃষ্ঠার শেষ প্যারাগ্রাফটি চুরি করা হয়েছে ড. রশিদের প্রবন্ধের ৩৮৯ পৃষ্ঠার শেষ প্যারাগ্রাফের ১ম ৮ সারি থেকে। ড. নাসিরের পুস্তকের ৩৮ পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ১ম ৫ সারি নেয়া হয়েছে ড. রশিদের প্রবন্ধের ৩৯১ পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ১ম ৫ সারি থেকে। ড. নাসিরের পুস্তকের ৩৮ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ ২য় প্যারাগ্রাফটি নেয়া হয়েছে ড. রশিদের প্রবন্ধের ৩৯৪ পৃষ্ঠার শেষ প্যারাগ্রাফের ১ম ১১ সারি থেকে। ড. নাসিরের পুস্তকের ৪৩ পৃষ্ঠার ১১-১৮ নম্বর সারিগুলো চুরি করা হয়েছে ড. রশিদের প্রবন্ধের ৩৮৪ পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৮-১৪ নম্বর সারি থেকে। ড. নাসিরের পুস্তকের ৪৪ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ শেষ প্যারাগ্রাফটি নেয়া হয়েছে ড. রশিদের প্রবন্ধের ৩৮৫ পৃষ্ঠার ৩য় প্যারাগ্রাফ থেকে। ড. নাসিরের পুস্তকের ১০ নম্বর চ্যাপ্টারের ১ম প্যারাগ্রাফের ৫-১০ নম্বর সারি চুরি করা হয়েছে ড. রশিদের প্রবন্ধের ৩৯৬ পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ১ম ৫ সারি থেকে। উল্লেখ্য উপরোক্ত একটি ক্ষেত্রেও ড. নাসির তারই নিজের শিক্ষক ড. রশিদের প্রবন্ধের কোনো রেফারেন্সই ব্যবহার করেননি যা পরিষ্কারভাবেই একাডেমিক চৌর্যবৃত্তির শামিল।
কেউ কেউ হয়তো ভাববেন যে, সদ্য মাস্টার্স পাশ করা একজন কম বয়সী তরুন অজ্ঞতাহেতু এমন একটি কাজ করে ফেলেছেন যা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যায় যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হবার পরে ড. নাসির দ্বিগুন গতিতে তার একাডেমিক চৌর্যবৃত্তির কাজটি চালিয়ে যেতে থাকেন।

২০০২ সালে লেকচারার থাকাকালীন সময়ে ড. নাসির একটি বইয়ের সহসম্পাদক হলেন যার শিরোনাম “Environmental Issues in Bangladesh: An Anthropological Perspective”। এই বইয়ে উনি নিজেও একটি আর্টিকেল লিখলেন An overview on Ecological Anthropology: Theories, Methodologies, Concepts and Issues। আবার সেই plagiarism!!! একেবারে সস্তা সোর্স থেকে!!! Dr. Michael D. Murphy ও Stacy McGrath রচিত “Anthropological Theories: A Guide Prepared By Students For Students” নামক থিওরীর কিছু সহায়ক লেখা-লেখির একটি হচ্ছে Ecological Anthropology যা ইন্টারনেটে যে কেউ সার্চ দিলেই পাবেন (Weblink: http://anthropology.ua.edu/cultures/cultures.php?culture=Ecological%20Anthropology)। এবার উনি সেখান থেকে চুরি করলেন নির্দ্বিধায়। ড. নাসিরের আর্টিকেলের ১২৭ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ১ম পাঁচ সারি ও ২য় প্যারাগ্রাফের শেষ চার সারি, ১২৮ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের শেষ সাত সারি ও শেষ প্যারাগ্রাফের শেষ আট সারি, ১২৯ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের শেষ চার সারি ও ২য় প্যারাগ্রাফের শেষ নয় সারি, ১৩০ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ২-১১ নম্বর সারি, ১৩২ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৬-১৫ নম্বর সারি ও ৩য় প্যারাগ্রাফের ২-৪ নম্বর সারি, ১৩৫ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ৪-৯ নম্বর সারি ও ৩য় প্যারাগ্রাফের ১-৫ নম্বর সারি, ১৩৬ নম্বর পৃষ্ঠার ৫ম প্যারাগ্রাফের ১-৫ নম্বর সারি, ১৩৭ নম্বর পৃষ্ঠার ৩য় প্যারাগ্রাফের ৩-১৩ নম্বর সারি, ১৩৮ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ৫-১৪ নম্বর সারি-এই সমস্ত সারিগুলো চুরি করা হয়েছে মারিয়া পানাখিয়ো ও স্ট্যাসি ম্যাকগ্রাথের উপরোক্ত লেখা থেকে।
একে তো ড. নাসির চুরি করেছেন মারিয়া পানাখিয়ো ও স্ট্যাসি ম্যাকগ্রাথের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরী করা একটি লেখা থেকে। তার ওপর আবার সেই চুরি ঢাকতে গিয়ে এমন সব হাস্যকর কান্ড-কারখানা করেছেন যা মূর্খতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যায়। লক্ষ করুন, ১২৯ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৩য় সারিতে ড. নাসির জানাচ্ছেন যে, রবার্ট নেটিংয়ের বইয়ের নাম নাকি ‘Cultural Ecology: Reading’ (1977) এবং আরও দাবী করছেন যে, রবার্ট নেটিংয়ের বইয়ে ‘cultural ecology’ নামে একটি চ্যাপ্টার আছে। সবিনয়ে জানাচ্ছি যে, রবার্ট নেটিংয়ের বইয়ের নাম ‘Cultural Ecology’ এবং এই বইয়ে ‘Cultural Ecology’ নামে কোন চ্যাপ্টার নেই।

আপনাদের এবার মূল ঘটনা জানাচ্ছি। আসলে মারিয়া পানাখিয়ো ও স্ট্যাসি ম্যাকগ্রাথের প্রবন্ধে রবার্ট নেটিংয়ের রেফারেন্স দেয়া ছিলো নিম্নোক্তভাবে:
Netting, Robert McC. 1977. Cultural Ecology. Reading, Massachusetts: Cummings Publishing Company.
কিন্তু ড. নাসিরের তো জানা নেই যে, Reading হচ্ছে ম্যাসাচুসেটসের একটি ছোট্ট শহর যার উল্লেখ এখানে রয়েছে প্রকাশনার স্থান হিসেবে। ড. নাসির ভেবে বসলেন Reading বোধহয় রবার্ট নেটিংয়ের বইয়ের নামের অংশ। আর সে মতোই মূর্খের মতো কাজ করলেন। সত্যিই সেলুকাস!!!
এখানেই শেষ নয়। ১২৯ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৩য় সারিতে ড. নাসির উল্লেখ করছেন যে, রবার্ট নেটিং নাকি তার বইয়ের preface এ লিখেছেন: “This book is a comprehensive review of ecological anthropology, highlighting its potential contributions to understanding humankind and its limitations”.

কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে রবার্ট নেটিংয়ের preface এ ধরণের কোন বাক্যই নেই!!! থাকবে কোত্থেকে? এই লাইনগুলোতো লিখেছেন মারিয়া পানাখিয়ো ও স্ট্যাসি ম্যাকগ্রাথ তাদের প্রবন্ধে। আসলে ড. নাসির ভাব দেখাতে চেয়েছিলেন যে, তিনি রবার্ট নেটিংয়ের বইটি পড়েছেন। কিন্তু ওই যা হয় আর কি। চোরের দশদিন তো গৃহস্থের একদিন। ড. নাসিরের এই একই প্রবন্ধের ১৩৪ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৭-১০ নম্বর সারি নেয়া হয়েছে Biersack, Aletta 1999. Introduction: From the “New Ecology” to the New Ecologies. American Anthropologist. (Vol. 101, No. 1) থেকে। এছাড়াও ১৩৩ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ১-৪ নম্বর সারি চুরি করা হয়েছে What is Population Ecology? শিরোনামের ইন্টারনেটভিত্তিক একটি লেখা থেকে যার ওয়েব ঠিকানা হচ্ছে: http://alexei.nfshost.com/PopEcol/lec1/whatis.html। উল্লেখ্য উপরোক্ত কোনো ক্ষেত্রেই ড. নাসির তার লেখায় মূল উৎসগুলোর রেফারেন্স দেবার প্রয়োজনই মনে করেননি।

ধরা যাক ড. নাসির তখন সবে লেকচারার। না বুঝে অমনটা হয়েই যেতে পারে। কিন্তু এবার সাল ২০০৬। এতো দিনে উনি কিন্তু এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। এইবার লিখলেন Paradox of Ethnicity as a Phenomenon: Bangladesh Perspective। এটিকে আবার আন্তর্জাতিক প্রকাশনা হিসেবেও দাবি করা হয়। কারণ এটি প্রকাশিত হয়েছে South Asian Anthropologist নামক জার্নাল থেকে (ভলিউম ৬, নম্বর ১, পৃষ্ঠা: ১-৭)। এই প্রবন্ধের ২ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৭-১৪ নম্বর সারি নেয়া হয়েছে ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত Thomas Hylland Eriksen রচিত Ethnicity and nationalism: Anthropological perspectives গ্রন্থের ১২ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ১ম ৭ সারি থেকে। লক্ষ করুন, চুরি ঢাকবার জন্য এবং নিজেকে পন্ডিত প্রমান করবার জন্য ড. নাসির এখানে রেফারেন্স হিসেবে Glazer and Moynihan ’75:15 উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে Glazer and Moynihan এর বইতে ১৫ নম্বর পাতায় এ ধরণের কোন বাক্যমালা নেই। থাকবে কিভাবে? কারণ, এই বাক্যগুলো চুরি করা হয়েছে Eriksen এর লেখা থেকে যার প্রমান যে কেউ Eriksen এর বই খুললেই পাবেন ২য় পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ২৪-৩২ নম্বর সারিগুলোও (প্যারাগ্রাফটি ৩য় পৃষ্ঠায় গিয়ে শেষ হয়েছে) নেয়া হয়েছে Eirksen এর গ্রন্থের ১৩ নম্বর পৃষ্ঠার ৩য় প্যারাগ্রাফের ১ম ৭ সারি থেকে। লক্ষ করুন, চুরি ঢাকবার জন্য এবং নিজেকে পন্ডিত প্রমান করবার জন্য ড. নাসির এখানেও রেফারেন্স হিসেবে Cohen এর কাজ উল্লেখ করেছেন Cohen,74 হিসেবে। কিন্তু ড. নাসির কোনভাবেই তার চুরির নিশানা লুকাতে পারেননি। Cohen এর রেফারেন্স নাসির দিয়েছেন Eriksen এর লেখা থেকে। কিন্তু ভাবখানা এমন করছেন যেন উনি Cohen পড়ে সরাসরি Cohen থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন। কিন্তু একটু মাথা-মগজ খাটালেই এখানে ড. নাসিরের চাতুর্যপূর্ণ চৌর্যবৃত্তি ধরতে পারা যায়। Eriksen তার গ্রন্থের ১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় Cohen কে রেফার করেছেন Cohen (1974a) হিসেবে। আর Eriksen এর গ্রন্থ নির্দেশিকায় Cohen এর কাজকে উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে: Cohen, Abner (1974a) ‘Introduction: the lesson of ethnicity’. in Abner Cohen, ed., Urban Ethnicity, pp. ix–xxii. London: Tavistock । বেচারা নাসির জানতেনই না এখানে 1974 এর পর a দেয়ার মানে কি। ফলে ড. নাসির তার লেখায় যখন Cohen কে রেফার করেছেন তখন তিনি রেফারেন্স হিসেবে Cohen, Abner (1974) Two-dimensional Man. London: Tavistock উল্লেখ করে বসে আছেন। আবারও ধরা।

কারণ Cohen এর এই গ্রন্থে এ ধরণের কোন বাক্যমালাই নেই। আসলে Eriksen এর প্রবন্ধে Cohen (1974a) ছাড়াও রেফারেন্স হিসেবে Cohen (1974b) ও ছিলো। ড. নাসির চুরি করেছেন Cohen (1974a) থেকে। কিন্তু ওই যে a, b এর পার্থক্য জানা না থাকায় রেফার করে বসে আছেন Eriksen এর গ্রন্থের Cohen (1974b)। সাল ২০০৭। এতো দিনে ড. নাসিরের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ার কথা। কিন্তু বিধি বাম। এইবারে লিখলেন Approaches towards Ethnicity among the Bengalis in the Chittagong Hill Tracts: An Anthropological Study। ছাপা হলো South Asian Anthropologist শিরোনামের জার্নালের ভলিউম ৭ এর ১ নম্বর সংখ্যায় (পৃষ্ঠা ২১-২৯)। এই প্রবন্ধের ২৩ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ৭-১১ নম্বর সারি ও ১৭-২৬ নম্বর সারি এবং পুরো ২য় প্যারাগ্রাফ নিলেন কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমিরেটাস প্রফেসর Wsevolod Isajiw এর ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ থেকে যার শিরোনাম “Definition and dimensions of ethnicity: A theoretical framework” (Paper Presented at Joint Canada-United States Conference on the Measurement of Ethnicity April 1-3, 1992, Ontario, Ottawa)। যে কারো লেখা থেকে যে কেউ রেফারেনসিং এর স্বীকৃত নিয়ম মেনে উদ্ধৃতি, মতামত ধার করতে পারেন। কিন্তু, ড. নাসির আবারও নিজেকে পন্ডিত প্রমান করার জন্য এমন কাজ করলেন যা plagiarism এর উৎকট নিদর্শন। Isajiw তার প্রবন্ধে বিভিন্ন পন্ডিতের লেখা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যেমন, Isajiw এর প্রবন্ধের ২য় পৃষ্ঠায় উল্লেখিত একটি রেফারেন্স হচ্ছে (Geertz, 1963; Isaacs, 1975; Stack, 1986)। এখন কেউ যদি নিজের প্রবন্ধ বা বইতে Isajiw এর প্রবন্ধ থেকে এই রেফারেন্সগুলো ব্যবহার করতে চান তবে তাকে লিখতে হবে (Geertz, 1963; Isaacs, 1975; Stack, 1986 cited in Isajiw 1993:2)। তখন যে কেউ বুঝবে যে আপনি Geertz, 1963; Isaacs, 1975; অথবা Stack, 1986 সরাসরি তাদের বই থেকে পড়েননি, পড়েছেন Isajiw এর প্রবন্ধ থেকে। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করবে আপনার একাডেমিক ও ব্যক্তিগত সততা। কিন্তু, ড. নাসির যেহেতু দেখাতে চান যে তিনি এই সমস্ত লেখকের লেখা নিজে সরাসরি পড়েছেন, তাই তিনি উপরোক্ত স্বীকৃত পদ্ধতি এড়িয়ে এমন ভাবে রেফারেন্স ব্যবহার করলেন যা প্রকারান্তরে Isajiw কে অপমান করা ও একাডেমিক অসততার শামিল।

ড. নাসিরের প্রবন্ধের ২৩ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম ও ২য় প্যারাগ্রাফ জুড়েই পাওয়া যাবে এমন অসংখ্য রেফারেন্স চুরির নিদর্শন। স্বীকৃত নিয়ম না মেনে নিজেকে পন্ডিত প্রমান করতে যেয়ে ড. নাসির এমন সব কান্ড করে বসেছেন যা একাডেমিক সততার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে যায়। যেমন, Isajiw তার প্রবন্ধে Jeffrey A. Ross এর একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন নিম্নোক্তভাবে: ethnicity is “a group option in which resources are mobilized for the purpose of pressuring the political system to allocate public goods for the benefit of the members of a self-differentiating collectivity” (Ross, 1982)। অর্থাৎ, বন্ধনীর ভেতরের কথাগুলো Isajiw স্বীকৃত নিয়ম মেনে ধার করেছেন Ross থেকে যা একেবারেই Ross এর নিজস্ব উক্তি। কিন্তু, ড. নাসির নিজেকে পন্ডিত প্রমান করতে যেয়ে নিজের প্রবন্ধের ২৩ নম্বর পৃষ্ঠায় এই কথাগুলোর শেষে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে বসে আছেন Glazer and Moynihan, ’63, ’75; Bell, ’75; Ross, ’82; Banton, ’83। একাডেমিক জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট যে কেউ এটা জানেন যে, Ross এর একটি নিজস্ব উক্তি কখনও Glazer and Moynihan, Bell বা Banton এর হতে পারেনা, ওটা কেবলই Ross এর নামে রেফার করতে হবে।
২০১০ সালে ড. নাসির লিখলেন People of Cultural Difference: Cultural Diversity in Bangladesh with Special Focus on the Chittagong Hill Tracts। ছাপা হলো The Journal of Social Studies এর ১২৮ নম্বর সংখ্যার ৫১-৭৩ নম্বর পৃষ্ঠায়। এবার ড. নাসির উইকিপিডিয়ার মতো একটা সস্তা সোর্সের Cultural Diversity নামক ভুক্তি থেকে সরাসরি তুলে দিলেন কোনো রকম রেফারেন্স উল্লেখ ছাড়াই। সুপন্ডিতেরা সোর্স উল্লেখ করেও উইকিপিডিয়া থেকে কোনো কিছু ধার করার চিন্তাও করেন না। সেখানে উনি ধারতো করলেনই, আবার সেটাকে নিজের বলে চালিয়েও দিলেন!

ড. নাসির তার প্রবন্ধের ৫৩ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় ও ৩য় প্যারাগ্রাফ চুরি করেছেন উইকিপিডিয়ার Cultural Diversity নামক ভুক্তি থেকে যার Web Address হচ্ছে: https://en.wikipedia.org/wiki/Cultural_diversity।
২০১১ সাল। ড. নাসির তখন সহযোগী অধ্যাপক। যথেষ্ট পরিণত। লিখলেন Emile Durkheim কে নিয়ে। ছাপা হলো India থেকে। Avenel Companion to Modern Social Theorist শিরোনামের এই পুস্তকের ২৯৩-৩০৬ নম্বর পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ড. নাসিরের প্রবন্ধ। অর্থাৎ রীতিমতো ইন্টারন্যাশনাল পাবলিকেশন! কিন্তু সেই একই ঘটনা! এইবার নানা সোর্স থেকে এমনভাবে টুকলি করলেন যে ধরতে বেশ ঘাম ঝরাতে হবে।

২৯৪ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের শেষ ৫ সারি নিলেন Wikipedia এর Emile Durkheim নামক ভুক্তি থেকে যার Web Address হচ্ছে: https://en.wikipedia.org/wiki/%C3%89mile_Durkheim। ২৯৪ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৩-৭ নম্বর সারি টুকলি করা হয়েছে Abram Kardiner & Edward Preble এর ১৯৬১ সালে রচিত They Studied Man গ্রন্থের ৯৮ নম্বর পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফ থেকে। ২৯৪ নম্বর পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ শেষ প্যারাগ্রাফটি নেয়া হয়েছে Lewis A. Coser এর ১৯৭৭ সালে লেখা Masters of Sociological Thought: Ideas in Historical and Social Context শীর্ষক গ্রন্থের ১৪৩ নম্বর পৃষ্ঠার ৫ম প্যারাগ্রাফ থেকে। ড. নাসিরের প্রবন্ধের ২৯৫ নম্বর পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ ১ম প্যারাগ্রাফ চুরি করা হয়েছে Lewis A. Coser এর গ্রন্থের ১৪৩ নম্বর পৃষ্ঠার শেষ প্যারাগ্রাফ থেকে (প্যারাটি ১৪৪ নম্বর পৃষ্ঠায় যেয়ে শেষ হয়েছে)। ২৯৫ নম্বর পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ ২য় প্যারাগ্রাফ নেয়া হয়েছে Lewis A. Coser এর গ্রন্থের ১৪৪ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ৩-১২ নম্বর সারি থেকে। ড. নাসিরের প্রবন্ধের ৩০১ নম্বর পৃষ্ঠার শেষ প্যারাগ্রাফের শেষ ৯ সারি (যা শেষ হয়েছে ৩০২ নম্বর পৃষ্ঠায় যেয়ে), ৩০২ নম্বর পৃষ্ঠার ১ম প্যারাগ্রাফের ৩-৫ নম্বর সারি, একই পৃষ্ঠার একই প্যারাগ্রাফের ৯-১৪ নম্বর সারি এবং একই পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ৫-১২ নম্বর সারি চুরি করা হয়েছে Wikipedia এর “Suicide (book)” ভুক্তি থেকে যার Web Address হচ্ছে: https://en.wikipedia.org/wiki/Suicide_(book)।

সাল ২০১২। ড. নাসির উদ্দিন তখন কেবল সহযোগী অধ্যাপকই নন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান। Man in India শীর্ষক জার্নালের ৯২ (১) সংখ্যার ১৭৭-১৯৪ পৃষ্ঠায় ছাপা হলো ড. নাসিরের প্রবন্ধ “Malaise of modernity: Symptoms of Cultural Imperialism in Bangladesh”। ১৭৯ পৃষ্ঠার Cultural Imperialism:Conceptual Framework উপশিরোনামের অধীনে ১ম প্যারাগ্রাফের ২য় সারিতে উল্লেখিত ৪ নম্বর end note (১৯১ পৃষ্ঠার শেষে এই ৪ নম্বর end note টি পাওয়া যাবে) এবং ২য় সারিটি নেয়া হয়েছে Livingston A. White কর্তৃক ২০০১ সালে রচিত Reconsidering cultural imperialism theory নামক প্রবন্ধ থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে Transnational Broadcasting Studies (TBS) নামক জার্নালের No. 6, Spring/Summer 2001 সংখ্যায়। যে কেউ ইন্টারনেটে ঢুকলে এই প্রবন্ধটি দেখতে পাবেন। Web address হচ্ছে: http://tbsjournal.arabmediasociety.com/Archives/Spring01/white.html।
ড. নাসিরের প্রবন্ধের ১৭৯ পৃষ্ঠার Cultural Imperialism:Conceptual Framework উপশিরোনামের অধীনে ১ম প্যারাগ্রাফের ৫-১৩ নম্বর সারিগুলো এবং ১৮০ পৃষ্ঠার ১-১১ নম্বর সারিগুলো নেয়া হয়েছে নিম্নোক্ত দুটি উৎসের কোনো একটি বা দুইটিই থেকে। প্রথমটি হচ্ছে শিশুতোষ একটি ওয়েবসাইটের এনসাইক্লোপিডিয়ার Cultural Imperialism নামক ভুক্তি থেকে যার Web address হচ্ছে: http://encyclopedia.kids.net.au/page/cu/Cultural_imperialism?title=Torne_Valley। আর দ্বিতীয় উৎসটি হচ্ছে একটি ব্লগে J. K. নামক জনৈক ব্লগারের ২৬ জানুয়ারী ২০০৪ সালে পোস্ট করা একটি লেখা থেকে যার Web address হচ্ছে: http://www.translatorscafe.com/cafe/MegaBBS/forumthread1938.htm।

১৮০ পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ১ম ৪ সারি নেয়া হয়েছে উপরোল্লেখিত Livingston A. White কর্তৃক ২০০১ সালে রচিত Reconsidering cultural imperialism theory নামক প্রবন্ধ থেকে। আর ৫-৮ নম্বর সারি নেয়া হয়েছে Wikipediaর Cultural imperialism নামক ভুক্তি থেকে যার Web address হচ্ছে: https://en.wikipedia.org/wiki/Cultural_imperialism। ১৮০ পৃষ্ঠার ৩য় প্যারাগ্রাফের ১-৮ নম্বর সারি নেয়া হয়েছে উপরোল্লেখিত শিশুতোষ একটি ওয়েবসাইটের এনসাইক্লোপিডিয়ার Cultural Imperialism নামক ভুক্তি থেকে। আবার, ১৮১ পৃষ্ঠার ২য় প্যারাগ্রাফের ১-৪ নম্বর সারি নেয়া হয়েছেউপরোল্লেখিত Wikipediaর Cultural imperialism নামক ভুক্তি থেকে।

উপরোল্লেখিত প্রমাণসমূহ খুব সুনির্দিষ্টভাবেই আমাদের সামনে একাডেমিক জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট এক শ্রেণীর শিক্ষকদের নৈতিক অসততার দালিলিক উদাহরণ তুলে ধরে। কিন্তু, এমন সব প্রমান হাজির করার পরও ড. নাসিরকে শাস্তিস্বরূপ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দান থেকে বিরত থাকে নিয়োগ বোর্ড। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে উক্ত নিয়োগ বোর্ডে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয় খোদ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু, অতীব দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে ডিসিপ্লিনারি একশন নেয়া তো দূরে থাক, সামান্য তদন্ত করারও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। আর এভাবেই plagiarism এর একটি জঘন্য ঘটনা চলে গেলো লোকচক্ষুর অন্তরালে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক মান অর্জনে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই গঠিত হয়েছে একটি এক্রিডিটেশন বোর্ড। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চলছে “আত্মমূল্যায়ন” এর কাজ। আশা করা যায় যে “আত্মমূল্যায়ন” পর্বের কাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলো “আত্মউন্নয়ন” পর্বের কাজ সমাধা করে আন্তর্জাতিক মান অর্জনে সক্ষম হবে। কিন্তু সেই অর্জনের পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এধরণের অসৎ ও অনৈতিক কর্মকান্ড। তাই অচিরেই এ সমস্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষা পর্যবেক্ষক মহল।

 

Top