ঢাকা, ||

‘বিশ্বজিৎ হত্যায় সমাজ কলঙ্কিত’


আইন আদালত

প্রকাশিত: ১১:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

ঢাকা: পুরান ঢাকার চাঞ্চল্যকর টেইলার্স শ্রমিক বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘হামলা যারা করেছেন, তারা একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বিশ্বজিৎ যে হামলার শিকার হয়েছেন, এতে সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে’।

রোববার (০৬ আগস্ট) এ রায় দেন বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান বলেন, ছাত্র রাজনীতির অবক্ষয়, আবাসিক হলের রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা এবং তদন্তে গাফিলতি নিয়ে পর্যবেক্ষণে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

আদালত বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি, হরতাল-অবরোধের কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিশ্বজিৎকে রক্তাক্ত জখম করেন। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি হরতাল-অবরোধের ক্ষেত্রে আহ্বানকারী পক্ষ ও বিরোধী পক্ষকে গণতন্ত্র রক্ষা ও আইনের শাসনকে সমুন্নত রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন মানুষের জীবন বিপন্ন না হয় বা বিপন্নের আশঙ্কা না থাকে। জনসাধারণের শান্তি ভঙ্গ না হয় বা সম্পত্তির ক্ষতি সাধন না হয়’।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘বিশ্বজিৎ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না। নিরীহ এ ব্যক্তি নিরস্ত্র ছিলেন। আবার অনিরাপদ ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। এ হামলা যারা করেছেন, তারা একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বিশ্বজিৎ যে হামলার শিকার হয়েছেন, এতে সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে’।
‘ছাত্রনেতারা কখনো কখনো মিছিলে লোক বাড়াতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন, মিছিলে যেতে বাধ্য করছেন। হলে সিট দেওয়ার নামে ছাত্রদের দলে ভেড়াচ্ছেন। এরপর বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এ কারণে ছাত্র রাজনীতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে’।

‘এ অবস্থায় জাতীয় রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন’ মনে করে হাইকোর্ট বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হলের সিট বাণিজ্য, নকল করতে না দেওয়া, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার মতো কলঙ্কিত ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ উদ্বেগজনক সহিংসতা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’।

আদালত বলেন, ‘আজ অস্ত্র ও মাদক ছাত্রদের ওপর প্রভাব ফেলছে। কখনো কখনো তাদের হিংস্র করে তুলছে। যারা এগুলো করছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন মুষ্টিমেয় কিছু রাজনৈতিক নেতা। তারা মনে করেন, এসব কাজে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হবে’।

রায়ে দু’জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ২১ আসামির মধ্যে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Top