ঢাকা, ||

বিডিএসের নয়া সভাপতি ফিরোজ-সম্পাদক সিফাত, মিম্মি সাসপেন্ড!


এক্সক্লুসিভ

প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

বিশেষ প্রতিবেদক: শীর্ষস্থানীয় বির্তক সংগঠন বরিশাল ডিবেটিং সোসাইটিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য বিশেষ সাধারণ সভায় আগামী ৬ মাসের জন্য ফিরোজ মোস্তফাকে সভাপতি এবং তাহসীন সিফাতকে সাধারন সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় বরিশাল আইডিবি ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের সভাপতি নাছিমুন নাহার মিম্মির প্রতি সাধারণ সদস্যরা অনাস্থা প্রদান করে তার প্রাথমিক সদস্য পদ সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিডিএসে দীর্ঘদিনের চলমান অচলাবস্থা নিরসন হওয়ায় বির্তাকিক আনন্দ প্রকাশ করে। এই বিশেষ সাধারণ সভা থেকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নয়া কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ মো: শুকরানা।

অদক্ষতা, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠাসহ আর্থিক কেলেঙ্কারীর দায় মাথায় নিয়ে আউট হলেন মিম্মি। যিনি বিডিএসের সাবেক সভাপতি এমএ মাসুদের আর্শিবাদপুষ্ট হয়েই খুবই অল্প সময়ের মধ্যে সংগঠনের সর্বোচ্চ পদটি অধিকার করেছিলেন।

সূত্র জানিয়েছে, একক সিদ্ধান্তে বরিশালের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা কমিটি অনুমোদন, সংগঠনের আর্থিক তথ্য গোপন করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিডিএস কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। সম্প্রতি ঝালকাঠি জেলা কমিটি গঠন করে তাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মোস্তফার স্বাক্ষরের কথা বলা হলেও তাতে সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করেনি বলে প্রকাশ পায়। এ নিয়ে ঝালকাঠিতে পাল্টপাল্টি কমিটি গঠন করা হলে এবং প্রতারণার দায়ে বিডিএস সভাপতি নাছিমুন নাহার মিম্মি সংগঠনের সদস্যদের কাছে বিশ^াসযোগ্যতা হারান।

এর সূত্র ধরেই সাংগঠনিক অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার সাধারণসভা ডেকে মিম্মিকে আমন্ত্রণ জানান বিডিএসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মোস্তফা। বিডিএস সদস্যরা আশা করেছিল, এই সভায় মিম্মি যোগ দিয়ে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের জবাব দেবে। তবে সেই সভায় অজুহাত দেখিয়ে মিম্মি অনুপস্থিত থাকলে বিক্ষুব্দ সাধারণ সদস্যরা সংগঠনের স্বার্থরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

বিডিএসের নয়ানির্বাচিত সভাপতি ফিরোজ মোস্তফা বলেন, ‘ বিতর্ক চর্চাকে আন্দোলনে রূপদানের পরিপ্রেক্ষিতে এই নয়া কমিটি। সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে অনাকাঙ্খিতভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে হলেও আমি প্রতিষ্ঠকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের অবদানের ফলেই আজকের বিডিএসের ভিত্তি। আমি কখনো চাইবো না আমাদের স্বপ্নের সংগঠনের স্বচ্ছতা- জবাবদিহিতা নিয়ে কেউ বির্তক না করুক। যে আশায় সাধারণ বির্তাকিকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা পূরণ করে বিডিএসের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আনতে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ। বছরে কতটা ট্রফি আসলো সে হিসেব না করে কতজন বির্তাকিক তৈরি করতে পারলাম সেই হিসেবটাই আমি করতে চাই’। এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী সভাপতি নাছিমুন নাহার মিম্মির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

Top