ঢাকা, ||

বানের জলে হাওর পোড়ে, অন্তর পোড়ে চোখের জলে-মুন্নি সাহা


এক্সক্লুসিভ

প্রকাশিত: ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

সম্প্রতি  হাওর এলাকার মানুষের দু:খ-দুর্দশা দেখতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর গিয়েছিলেন দেশের স্বনামধন্য সাংবাদিক মুন্নী সাহা। সেখানে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত কৃষক সমাবেশে তার সাথে কথা হয় স্থানীয় অরিতন বিবির সাথে। সেই সংলাপ নিয়েই অনলাইনে লিখেছেন মুন্নি সাহা :

“গতবছরও হাওর পুড়লো, এবারও। ছেলেপেলে নিয়া খ্যামনে খি খরি…।” মধ্য তাহিরপুরের অরিতন বিবির এইসব সংলাপের দ্বিতীয় অংশ বুঝেছি। ছেলে পেলে নিয়ে ক্যামনে কি করবে… কিন্তু “হাওর পুড়লো”! চোখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করি— ও খালা হাওর পুড়লো, মানে কি? আমার এই বোকা প্রশ্ন আনন্দ দিয়েছে অরিতন খালাকে। যিনি শনির হাওরের কাছে খোলা মাঠে শতশত কৃষদের কাতারে বসেছিলেন দু:খের কথা কইতে।
একটু মিষ্টি হেসে খালা আমার…”. কিতা কয় মাইয়াও, পানিতে সব যহন ন্যায়গা, তহনতো পুড়াই। পানিতে ফসল পুড়ছে, হাওর পুড়ছে, সংসার পুড়ছে… মা রে… থৈ থৈ পানিতেও পোড়ে”!
অনেকক্ষন স্তব্ধ হ’য়ে পানিতে পোড়া মাটিটার গন্ধ নেবার চেষ্টা করলাম। হুম, অরিতনের এই expression.. এতো শাহ আব্দুল করিম, রাধারমনের গন্ধ। এই জলে পোড়া মাটির মানুষরাই এমন সহজ করে বলতে পারেন— “হাওর পুড়ছে”!


এবার অরিতন খালা কানের কাছে মুখটা এনে বলেন– হাওরে ১ টা রাইত থাকতাইননা? ১ রাইত না থাহলে, ক্যামনে বুজবা দু:খ কষ্টের কথা?
আমি বললাম— “চারিদিকে পানি, পানিতে তো তোমার ঘর পুড়ছে, খাওন নাই, শোয়ন নাই… আমারে কই রাখবা?”
তরে আমার বুহের ওপুর ( বুকের ওপর) রাহুম রে মাইয়া, কিচ্ছু সাহায্য লাগতো না– মনডা ভইরা কথা কমু। ”

হঠাৎ আমার ঝাপসা চোখে শনির হাওরের থৈ থৈ পানি ঘোলা দেখায়। তাইলে চোখের পানিতেও কি অন্তর পোড়ে!

Top