ঢাকা, ||

বাংলাদেশে ‘টিম হাসিনা ২০১৯’ কবে?


ঢাকা

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববার মন্ত্রিসভায় যে পরিবর্তন এনেছেন, তাকে সে দেশের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ‘টিম মোদি ২০১৯’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, ভারতে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন সামনে রেখেই মোদি তাঁর টিম সাজিয়েছেন। উল্লেখ্য, মোদির নেতৃত্বে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এর আগে কংগ্রেস একনাগাড়ে ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল।

মন্ত্রিসভায় রদবদলের আগে সেখানে নানা জল্পনা চলছিল। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ কে কে আসছেন, কে কে বাদ পড়ছেন, সেসব নিয়ে টানাপোড়েনও কম ছিল না। বিশেষ করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবে কি না, এ নিয়ে দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির সভাপতির বাসভবনে বৈঠক হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী পদে পরিবর্তন এসেছে। কয়েকজন বাদ পড়েছেন এবং কয়েকজন নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। পদোন্নতি পেয়েছেন কেউ কেউ।

মোদির মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো একজন নারীর হাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ। ইন্দিরা গান্ধীর পর প্রথম কোনো নারী এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন। নির্মলা সীতারামণ। ৫৮ বছর বয়সী নির্মলা বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর গোঁয়ার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ও দেখভাল করতেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, আগামী লোকসভার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন্ত্রিসভায় আরেক দফা রদবদল ঘটান। এর আগে দুবার তিনি মন্ত্রসভায় পরিবর্তন আনেন। এবারের রদবদলে পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে চারজনের পদোন্নতি ঘটিয়ে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়, আর নতুন মন্ত্রী করা হলো ৯ জনকে। পরিবর্তিত মন্ত্রিসভায় আগের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পীযূষ গয়াল পান রেলওয়ে ও কয়লার দায়িত্ব। আর উত্তর প্রদেশে সম্প্রতি বড় ধরনের দুটি রেল দুর্ঘটনার পর মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা সুরেশ প্রভুকে দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী থাকা ধর্মেন্দ্র প্রধান পেয়েছেন দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভিও পূর্ণমন্ত্রী হন।

যোগাযোগমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি পানিসম্পদ, নদী উন্নয়ন ও গঙ্গা পুনরুজ্জীবন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। উমা ভারতীকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সুপেয় পানি ও পয়োনিষ্কাশন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর সাবেক মানবসম্পদমন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে দেওয়া হয়েছে টেক্সটাইল এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

বাংলাদেশেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০১৮ সালের শেষে কিংবা ২০১৯ সালের শুরুতে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশেও মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল আসছে কি না, রাজনৈতিক মহলে বেশ গুঞ্জন রয়েছে। ভারতে নির্বাচনকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদি তাঁর টিম সাজিয়েছেন। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কি নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর টিম সাজাতে মন্ত্রিসভায় আরেক দফা পরিবর্তন আনবেন, না যেভাবে চলছে সেভাবেই চালাবেন?
মাস দুই আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে বলে মৃদু ইশারা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেছিলেন, মন্ত্রিসভা গঠন বা পরিবর্তন একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এ বিষয়ে অন্য কারও কিছু বলার নেই। তবে আকাশ চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

ভারতের আকাশে চাঁদ উঠেছে। বাংলাদেশের আকাশে নতুন চাঁদ উঠবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাব একমাত্র প্রধানমন্ত্রীরই জানা আছে। মন্ত্রিসভা গঠন কিংবা পরিবর্তন করা যেমন প্রধানমন্ত্রীর একক এখতিয়ার, তেমনি মন্ত্রিসভার ভালো-মন্দের দায়ও কিন্তু তাঁকে নিতে হয়। এ কারণেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের মধ্যে কে কতটা দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, সেটি যাচাইবাছাই করে দেখা প্রয়োজন। পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশেই এটি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যখন মন্ত্রিসভা গঠন করেন, নিশ্চয়ই তাঁর একটি হিসাবনিকাশ ছিল। সেই হিসাবের সঙ্গে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স যদি শতভাগ মিলে যায়, তাহলে মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রশ্ন আসে না। যদি না মেলে, তখন নতুন করে তাঁকে ভাবতে হয়। এ বিষয়ে তিনি প্রকৃত খবরটি পেতে পারেন গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় কার সূচক কত ওপরে, কার সূচক কত নিচে, সেটি পরখ করার একটি মাপকাঠি হলো মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পরিকল্পনা ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন। আমরা প্রতিবছর দেখি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতি অর্থবছরে যেসব কর্মসূচি হাতে নেয়, তার একটি বড় অংশ অবাস্তবায়িত থাকে। কেন এমনটি ঘটে? কোনো কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে। যত বিলম্ব, ব্যয় বরাদ্দও তত বাড়ে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন হবে কি না, সেটি প্রধানমন্ত্রীই ঠিক করবেন। তিনি যদি মনে করেন, বর্তমান টিমই ঠিক আছে, তাহলে রদবদল করবেন না। আর যদি ভাবেন, পরিবর্তন আনা দরকার, তিনি করবেন। তবে, এই মুহূর্তে যে কথাটি কলা প্রয়োজন সেটি হলো, নির্বাচনের আগে তাঁকে অনেক বিষয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণ ১২ বছর আগে বিএনপি সরকারের ‘ব্যর্থতা ও দুঃশাসন’ বিচার করে ভোট দেবেন না। জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১০ বছরের, আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ৫ বছরের ‘সাফল্য-ব্যর্থতা’ বিচার করেই ভোট দেবেন।

প্রথম আলো

Top