ঢাকা, ||

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন প্রত্যাহার


ক্যাম্পাস

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অচল অবস্থার নিরসন ঘটেছে। টানা ৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে ১৯ সদস্যের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তাদের যৌক্তিক ২২ দফা দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে দাবি বাস্তবায়নে ভিসির আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। ফলে প্রাণ ফিরেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান, রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৬ কর্মকর্তা এবং মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান উপস্থিত ছিলেন। সভাশেষে ভিসি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হলে শিক্ষার্থীরা ভিসিকে স্বাগত জানায়।

এর আগে গত রোববার রাতে বরিশাল সার্কিট হাউজে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপির নেতৃত্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ভিসি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক বলেন, রোববার রাতে স্থানীয় সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠকে তাদের প্রত্যেকটি দাবির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটানো হয়েছে। আগামীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার ক্যাম্পাসে গিয়ে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সমস্যার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

BaRiSaL

ভিসি বলেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। এগুলোর মধ্যে কিছু স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যাবে। আর কিছু দাবি বাস্তবায়নের দেড় ২ বছর লেগে যাবে। শিক্ষার্থীরা বাস্তবতা অনুধাবন করে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা উল্লেখ না করার অভিযোগে গত ১৭ জুলাই বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এবং ১৯ জুলাই সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ নগরীতে মানববন্ধন করে।
এরপর ২৩ জুলাই থেকে ভিসির অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগ।

পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কিছু মৌলিক অধিকারের দাবি যুক্ত করায় আন্দোলনে যোগ দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

সেই থেকে ২২ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিসি ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নেয়ায় শিক্ষার্থীরা ভিসি অপসারণের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

 

Top