ঢাকা, ||

বরিশালে ২৩ ভবনে ঝুঁকিতে পাঠদান


Uncategorized

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

বরিশাল:  জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। ওই স্কুলগুলোতে পাঠদানের শ্রেণীকক্ষের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তাদের সন্তানদের নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটি ভবনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলেও গত ১০ বছরেও এ খাতে কোন অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। সূত্র মতে, ২০০৭ সালে সিডরের পরর্তী সময়ে সরকারী নির্দেশ পেয়ে উপজেলার ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওইসব বিদ্যালয়ের প্লাস্টার খসে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ায় শ্রেণী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫টি, নবজাতীয়করণকৃত বিদ্যালয় ২৯টি, বিদ্যালয় প্রকল্প দুটিসহ মোট ৯৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলার পূর্বমোহনকাঠী, পূর্ববাগধা দাসপাড়া, জয়রামপট্টি, দর্জিপাড়া, পূর্বগোয়াইল, বাহাদুপুর, পূর্বপতিহার, গোপালসেন নিমারপাড়, অহুতি বাটরা, পশ্চিম গোয়াইল, নাঘিরপাড়, দক্ষিণ আস্কর, দক্ষিণ-পূর্ব আস্কর, বারপাইকা মুসলিমপাড়া, পূর্ব সুজনকাঠীসহ ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন বর্তমানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনগুলো উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ থেকে নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণকাজের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের কাজ করায় দ্রুত এই ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও গত ১০ বছরেও সংস্কারের জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা জানান, শ্রেণীকক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। বিদ্যালয়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কোন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিমুহূর্তে সন্তানদের নিয়ে দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন তারা। জরুরী ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে বিদ্যালয়গুলো পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের জন্য জোর দাবি করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম তালুকদার জানান, উপজেলার ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্র্ণসহ মোট ২৩টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সরকারীভাবে চিহ্নিত করে সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রাজ কুমার গাইন বলেন, আগে এলজিইডি বিভাগের মাধ্যমে স্কুল ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করা হতো।

এখন সরকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প জিপিএসডিপি এবং রেজিস্ট্রিকৃত স্কুলগুলো জাতীয়করণের পরে নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প এনএনজিপিএসডিপির আওতায় নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছেন। সরকারীভাবে এখনও ওই প্রকল্পটি কাজ শুরু না করায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নির্মাণ বা সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্পের কাজ শুরু হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উল্লেখিত ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গলাচিপা

স্টাফ রিপোর্টার গলাচিপা থেকে জানান, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৫০ বছরেরও আগে নির্মিত ভবনে চলছে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন এবং ভবনটি ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলা শহরের একমাত্র বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৬১ সালে। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে প্রথমে একতলা একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়। পরে আশির দশকে একতলা ভবনের ওপর দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে ভবনটিতে তেমন সংস্কার বা মেরামতের ছোঁয়া পড়েনি। ফলে ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনের ছাদ, সিঁড়ি ও বিমের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। সে রডেও মরিচা ধরেছে।

দেয়ালের যেখানে সেখানে ফাটল ধরেছে। ছাদ চুইয়ে শ্রেণীকক্ষে পানি পড়ছে। টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ছাত্রীরা ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় সাত শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় গত কয়েক বছরে এসএসসিসহ অন্যান্য পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ঈর্ষণীয় ফলাফল করছে। ফলে বিদ্যালয়ে প্রতিবছর বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। কিন্তু একাডেমিক ভবনের হাল ফিরছে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে এখন সকলেই উদ্বিগ্ন।

নতুন ভবনের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে। নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত খালি জায়গায় টিনশেড দিয়ে ছাপড়া ঘর নির্মাণকাজ চলছে। পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

Top