ঢাকা, ||

বরগুনায় ৩৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাশ


বরিশাল

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

বরগুনায় ৩৭ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ক্লাশ করছেন। সংস্কারের অভাবে এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ সকল বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে ফাটল ধরেছে, দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়েছে। দরজা জানালা নেই বললেই চলে। ছাদে ফাটল ধরায় বর্ষার সময় ছাদ পুয়ে পানি পড়ছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ নিরুপায় হয়ে বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ছাদের নীচ দিয়ে পলিথিন টানিয়ে ক্লাশ করতে বাধ্য হচ্ছেন । ভবনের এমন অবস্থা হওয়ায় বেহাল দশায় পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভবনের অভাবে বেশী সমস্যায় পড়েছে দক্ষণ আমতলী আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

জানা গেছে, স্থানীয় এক নারী শিক্ষানুরাগী সফের ভানু ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ আমতলী গ্রামে “দক্ষিণ আমতলী আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়” নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টি পরবর্তীতে জাতীয় করন করা হয়। বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরে আমতলী উপজেলা এলজিইডি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা ব্যায়ে ৪ কক্ষের একটি ভবন নির্মান করে। ভবনটি নির্মানের পর দীর্ঘ ২২ বছর অতিবাহিত হলেও কোন সংস্কার করা হয়নি। সংস্কার না করায় দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়েছে।

দরজা জানালা খুলে পড়ে গেছে। লোহার ভিমের ঢালাই খসে পড়ে লোহার রডগুলো বেড়িয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে অংসখ্য ফাটল ধরেছে। ছাদে ফাটল ধরায় বৃষ্টি আসলেই ছাদ চুয়ে ভিতরে পানি পড়ে মেঝ তলিয়ে যায়। এসময় বৃষ্টির পানি পড়ার কারনে ক্লাশ নেওয়া যায় না।

শিক্ষকরা নিরুপায় হয়ে ছাদের নীচ দিয়ে পলিথিন টানিয়ে এখন ক্লাশ করছেন। বেশী বৃষ্টির সময় পলিথিন টানিয়েও পানি ঠেকানো যায়না। তখন নিরুপায় হয়ে ক্লাশ বন্ধ রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বারান্দায় গিয়ে দাড়িয়ে থাকেন।
সোমবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবনের ৪টি কক্ষেই ছাদের নীচে দরি দিয়ে বেঁধে পলিথিন টানানো হয়েছে। পলিথিনের উপর জমে আছে প্রচুর পরিমান পানি। পানির ভারে পলিথিন নীচু হয়ে শিক্ষার্থীদের মাথা ছুই ছুই করছে। এ অবস্থার মধ্যে দিয়েই চলছে ক্লাশ।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: নাহিদ হোসেন বলেন, বৃষ্টির সময় আমরা ঠিক মত ক্লাশ করতে পারি না। এতে আমাদের লেখা পড়ার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সামনেই আমাদের পরীক্ষা এভাবে স্কুলে ক্লাশ করতে না পাড়লে কি ভাবে পরীক্ষা দেব সে চিন্তায় আমরা। আরেক শিক্ষার্থী মো: সিয়াম বলেন, ভবনে ঢুকে ভয়ে ভয়ে আমরা ক্লাশ করি। কখন যে ছাদ ধসে পড়ে।
হলুদিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী অভিভাবক আবু জাফর বলেন, আমাদের বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ । এখানে একটি নতুন ভবন নির্মান খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পানি সেবনের জন্য রয়েছে একটি গভীর নলকুপ। নলকুপ দিয়ে পানি উঠলেও সে পানি ঘোলা কাদার মত এবং লবন মিশ্রিত। তাই দুরবর্তী নাননু খান এর বাড়ি থেকে কলস ভরে পানি এনে সেবন করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পানির চাহিদা মেটানো যায় না।
দক্ষিণ আমতলী আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো: ওমর ফারুক বলেন, আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন এখন ব্যাবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় পানি বাইরের আগে ঘড়ে পড়ে। এ অবস্থায় পলিথিন টানিয়ে ক্লাশ করি। তাতেও পানি বন্ধ করা যায় না। ভবনটি এতই দুর্বল যে কোন সময় ধসে পরে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটি সংস্কারের জন্য উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের নিকট বহুবার আবেদন করেছি কোন কাজ হচ্ছে না।
এছাড়া আমতলী উপজেলার আরো ৩৬টি স্কুল ভবনের দুরবস্থার চিত্র দেখা গেছে, সেসকল বিদ্যালয় গুলো হচ্ছে, বাইনবুনিয়া, চাউলা, পূর্বচুনাখালী, পূর্ব চরকগাছিয়া, মধ্য শাখারিয়া, আমরা গাছিয়া, চরচিলা, উত্তর সোনাখালী, মধ্যসোনাখালী, উত্তর চুনাখালী, গাজীপুর বন্দর, চাওড়া চালিতাবুনিয়া, পাতাকাটা নুরুল হক, দক্ষিণ ঘটখালী, দক্ষিণ পাতাকাটা, কাউনিয়া, দক্ষিণ ঘোপখালী, আড়পাঙ্গাশিয়া, কুকুয়া হাট, পূর্ব তারিকাটা, মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া, ভায়লাবুনিয়া, জেবি সেনের হাট, পশ্চিম আমতলী, দক্ষিণ পূর্ব গুলিশাখালী, দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী, দিক্ষণ পূর্ব চিলা, পূর্ব মহিষডাঙ্গা, টিয়াখালী হাট, ছোট নাচনাপাড়া, উত্তর পশ্চিম তক্তাবুনিয়া, আঠারগাছিয়া, মধ্য টেপুরা, ওয়াপদা ও বেগম নুরজাহান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন খুব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এবিষয়ে বরগুনা জেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা অফিসার আব্দুল মজিদ নয়াদিগন্তকে বলেন , জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ন ভবন সংস্কারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে ঝুঁকিপূর্ন ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মান করা হবে।

Top