ঢাকা, ||

ফেসবুক ঝড়ে কাবু সিলেটের বদরুল


তথ্যপ্রযুক্তি

প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

বন্ধুদের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হওয়ার পর ফেসবুকে ঝড় ওঠে সিলেটের ব্যবসায়ী বদরুল বিন আফরোজের বিরুদ্ধে। ফেসবুকে নানান মন্তব্য তাকে নিয়ে। ওয়েব দুনিয়ার আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বদরুল। এক সময়ের বন্ধুরাই তাকে এমনভাবে নাজেহাল করতে পারেন- সেটি কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সিলেটের পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। প্রথমে জিডি এবং পরে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেও নিস্তার হয়নি তার। তার মামলায় দুই বন্ধু হাজতবাস খেটে জামিনে বেরিয়ে এসে ফের বদরুলের বিরুদ্ধে ঝড় তুলেছেন ফেসবুকে। পাল্টা আঘাত হিসেবে অভিযোগ দিয়েছেন থানায়। এই অবস্থায়  সিলেটের পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন বদরুল। বলেছেন- হয়রানি মামলায় তাকে জড়িয়ে দেয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে তারই ওই বন্ধু। বদরুল বিন আফরোজ পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

পড়ালেখা করেছেন মাদরাসায়। সিলেট শহরতলির আখালিয়া সোনালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তিনি। সিলেটের মদিনা মার্কেটের ব্যবসায়ী হিসেবে সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ী ইনাম বিন সিদ্দিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। লেনদেন হয় টাকারও। ইনাম বিন সিদ্দিকেরও পড়ালেখা মাদরাসায়। পাওনা টাকা আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জিডি দায়েরের পর ১৬ই মে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ইনাম বিন সিদ্দিকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বদরুল বিন আফরোজ। ওই মামলায় বদরুল উল্লেখ করেন- তিনি নগরীর মদিনা মার্কেটে সিসি ক্যামেরা ও পেইন্টের ব্যবসায়ী। ইনাম বিন সিদ্দিক তার পূর্ব পরিচিত। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে ইনাম তার কাছ থেকে সিসি ক্যামেরা ও পুরাতন থাইয়ের মালামাল ক্রয় করে। কিন্তু টাকা দিতে বিলম্ব করায় তার সঙ্গে বিরোধ বাধে।

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কিছু টাকা উদ্ধার হলেও প্রায় ১০ হাজার টাকা পাওনা থেকে যায়। বদরুল দাবি করেন- পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ইনাম ও তার সঙ্গীরা তাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যাচার শুরু করে। এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণও শুরু করে। ৫ই মে তাদের ফেসবুকের বিভিন্ন আইডিতে তাকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু অপপ্রচার চালানো হয়। এতে করে তিনি অপদস্থ হন। এ ঘটনায় তিনি সিলেটের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডির পরও ৭ই মে মামলার অপর আসামি একই মার্কেটের বুখারা মিডিয়ার কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এছাড়া সাইফ রহমান নামের আরো এক আসামি ৬ই মে তার ‘সত্যর কলম’ নামের ফেসবুকে আইডিতে বড় স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের শিরোনাম ছিল- ‘সিলেটে সাংবাদিক নামধারী এক সন্ত্রাসীর আবির্ভাব’।

ওই স্ট্যাটাসে বদরুলের অত্যন্ত ক্ষতির প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই স্ট্যাটাসের পর মামলার ৪র্থ আসামি আমজাদুস সামাদ উজ্জ্বল ফোনে তাকে হুমকি দেন। ওই ফোনে উজ্জ্বল বলেন- ‘ইতা কিতা হুনলাম, যদি আমরার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কর তাহলে পরে টের পাইবা।’ মামলার ৫ম আসামি শাহ আনহার ইসলামও একই ভাবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে আনহার জানান- ‘এবার বদরুল ঠেলা সামলাও।’ ফেসবুকে একের পর এক আক্রমণাত্মক স্ট্যাটাস দেয়ায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন বদরুল ইসলাম। এ মামলায় প্রধান আসামি ইনাম বিন সিদ্দিক ও শাহ আনহার ইসলামকে পুলিশ ১৮ই মে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। ২১শে মে আসামিরা আদালত থেকে জামিন পায়। ২২শে মে সিলেটের মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত একটি অভিযোগ দাখিল করে বদরুল বিন আফরোজ। ওই অভিযোগে তিনি জানান- মামলা দায়ের ও আসামি গ্রেপ্তারের পর এবার ইনামের ভাগিনা মাহমুদ হাসান তার ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন কথা বলে মান সম্মান ক্ষুণ্ন করছে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন থানায় পুরাতন মামলায় তাকে আসামি করার চক্রান্ত চালাচ্ছে। তাদের কার্যকলাপে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় আছেন বলে দাবি করেন।

Top