ঢাকা, ||

নির্বাচন নিয়ে খালেদাকে মুহিতের ওপেন চ্যালেঞ্জ!


রাজনীতি

প্রকাশিত: ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

 

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ‘সিম্পলি রাবিশ’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং এই নির্বাচন আগামী বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে। আর খালেদা জিয়া যদি সিলেট থেকে নির্বাচনে দাঁড়ান, আমিও তার বিপক্ষে দাঁড়াব। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে তাতে সরকার ক্ষুব্ধ ও চিন্তিত। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে একটি সেইফ জোন থাকা উচিত।

ঈদের ছুটির পর গতকাল সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে নিজ দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আগামী বছর ২৫ ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন : অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে আপনি বলেছেন, আগামী বছরের অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন এগিয়ে আসার কারণ কী? এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি এ ধরনের কোনো বিবৃতি দেইনি। আমি নির্বাচন এগিয়ে আসার কথাও বলিনি। ওরা শুনতে ভুল করেছে। আমার চিন্তা মতে আগামী নির্বাচন ডিসেম্বরেই হবে। ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবস, বড়দিনসহ বিভিন্ন ঘটনা থাকে। তাই আমার মনে হয় আগামী ইলেকশন ২৫ ডিসেম্বরের পরেই হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এর আগে আগামী বছর আগস্ট থেকে ইলেকশন প্রস্তুতির কাজ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না

আগামী নির্বাচন কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইট উইল বি ভেরি গুড ইলেকশন। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে, কারণ নির্বাচনে অংশ না নিলে এই দলটি হাওয়া হয়ে যাবে, তাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। তিনি বলেন, বিএনপি জানে ফেয়ার ইলেকশন শুধু আওয়ামী লীগের সময়ই হয়। তাদের নেতৃত্ব কোনো ইলেকশন করতে পারেনি। তারা শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালে নির্বাচন করতে পেরেছিল, কিন্তু সেই ইলেকশনের পর তিনি (খালেদা জিয়া) মাত্র ১১ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। এটি একটি রেকর্ড। সুতরাং তিনি জানেন, শি ইজ নট কমপিটেন্ট টু হোল্ড এ ইলেকশন’।

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক দাবি রাবিশ! নির্বাচনের আগে হাসিনা সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী অনেকটা তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, তত্ত্ব¡বধায়ক দাবি রাবিশ। আমি আবারো বলছি, তাদের এই দাবি ‘সিম্পলি রাবিশ’। কারণ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সরকারই তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকার হয়ে যায়। গত নির্বাচনেই তা দেখা গেছে। এই সময় আমরা বিরোধী দলকে হোম মিনিস্ট্রি দিতে চেয়েছি, কিন্তু এবার বিএনপিকে তো তা দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এই দলটি এখন আর সংসদেই নেই।

আগামী নির্বাচনে আপনি দাঁড়াবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আছি দাঁড়াব না, কিন্তু দলের নেতৃত্ব যদি চায় তবে ভিন্ন প্রশ্ন। তবে আমার ভাই মোমেন (জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে, সে দাঁড়ালে তার প্রতি আমার সমর্থন থাকবে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান সিলেট-১ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, এর উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না, তবে প্রচার-প্রচারণা তো দেখি না। তিনি বলেন জোবায়দা রহমান যে ফ্যামিলি থেকে এসেছেন সেই খান বাহাদুর ফ্যামিলি সিলেটে খুব ফেমাস ফ্যামিলি। তার দাদা প্রথম মুসলিম আইসিএস অফিসার ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শোনা যাচ্ছে খালেদা জিয়া সিলেট থেকে নির্বাচন করবেন। তাদের দলের লোকজনই তা বলছে। সে ক্ষেত্রে আমি তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেবো। খালেদা জিয়া দাঁড়ালে, আমিও দাঁড়াব।

রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারে সেইফ জোন থাকা উচিত

রোহিঙ্গা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, মিয়ানমার যা করছে তা মানবাধিকারবিরোধী। এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মিয়ানমারে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি নোবেলে শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন মানুষ হয়ে কিভাবে এমন অমানবিক কাজ করছেন সেটা আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে ভেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধায়নে মিয়ানমারে যেকোনো এলাকায় আলাদা একটি জোন করা উচিত, যেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে। জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সেইফ জোন থাকা উচিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা কোনো চাপে নাই। আমরা তো তাদের জন্য করছি। এটি একটি মানবিক সমস্যা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তাই নীতিগতভাবে তাদেরকে আমরা প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। তবে এ দেশে অবাধে প্রবেশ করার সুযোগ দেয়াটাও সমস্যা।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে। এরই মধ্যে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তার ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে।
গত শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতি বছর এই দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করে থাকেন। কিন্তু এ বছর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকায় তিনি এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে দলের সিনিয়র নেতারাসহ কয়েক হাজার কর্মী উপস্থিত হন মাজার প্রাঙ্গণে।

সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানকে নিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, আবদুল মান্নান, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবেদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, কাজী মাজহারুল আনোয়ার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, মীর সরফত আলী সপু, অঙ্গসংগঠনের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মহানগরের আহসান উল্লাহ হাসান, কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সকাল থেকেই চন্দ্রিমা উদ্যানের মূল প্রবেশপথ পুলিশ বন্ধ করে রাখে। ফলে মিডিয়াসহ এবং দলের নেতাকর্মীরা পেছনের সরু পথ দিয়ে প্রবেশ করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মাজারে প্রবেশে বাধা দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে নেতাকর্মীদের প্রধান ফটক দিয়ে আসতে দেয়া হয়নি। প্রবেশপথ বন্ধ করে রেখেছে। তাই পেছন দিয়ে আসতে হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। হত্যা-গুম-খুনের মাধ্যমে নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতকে তারা ধবংস করে দিচ্ছে।

দেশে ‘গুম-খুন-ত্রাস’ সৃষ্টি করে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে এবং আন্দোলনের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রকে তারা ফিরিয়ে আনবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।

Top