ঢাকা, ||

নাড়ির টানে বাড়ির পানে


জাতীয়

প্রকাশিত: ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকার গাজীপুর থেকে ছোট একটি ট্রাকের বগিতে স্বজনদের সঙ্গে উঠে পড়েন ফাতেমা খাতুন। তখন সময় ছিলো বিকেল ৫টা। ফাতেমাদের গন্তব্যস্থল বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের কান্তনগর গ্রামে।

সে হিসেবে যাত্রীবোঝাই ট্রাকটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের ধুনটমোড় বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ায়। তখন ঘড়ির কাঁটা রাত ১টায় স্থির। এরমধ্যে মহাসড়ক পথে ট্রাকের ভেতর কেটে গেছে পুরো আট ঘণ্টা।

এরপর ধরাধরি করে ট্রাক থেকে নেমে পড়েন ধুনটমোড় বাসস্ট্যান্ডে। মহাসড়কের পশ্চিমপাশ থেকে পূর্বপাশে এসে অবস্থান নেন। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছুতে কাটা পথ পাড়ি দিতে অপেক্ষার প্রহর শুরু হয় আরেকটি গাড়ির জন্য।

কারণ এই বাসস্ট্যান্ড হয়ে বগুড়ার ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় চলাচল করা অনেকটা সুবিধা। সারা রাতই এখানে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও বাস পাওয়া যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ ভাল। নিরাপত্তার জন্য বাসস্ট্যান্ডসহ আঞ্চলিক এসব সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দল থাকে।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা হয় ফাতেমা ও তার স্বজনদের। যারা সবাই গার্মেন্টকর্মী। ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

তাদেরই একজন ফাতেমা খাতুন জানান, অভাব-অনটনের সংসার। ঘরে রয়েছে মা-বাবা ও ছোট ভাই-বোন। বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। তার একার আয়ে ঠিকমত সংসার চলে না। তাও বাবার বয়স হয়েছে।

এছাড়া বন্যায় বসতভিটা তলিয়ে গেছে। আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের জায়গায়। গ্রামে মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁই ছাড়া কোন জায়গা জমি নেই। তাই সবকিছু ছেড়ে গার্মেন্টে চাকরি করা।
এসময় ইউসুফ আলী, রুমকি খাতুন, খোরশেদ আলম, রোজিনা বেগমসহ একাধিক গার্মেন্টকর্মী একই আলাপচারিতায় যুক্ত হন।

এসব গার্মেন্টকর্মী বাংলানিউজকে জানান, তাদের সব সময় অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। পদে পদে পোহাতে হয় ভোগান্তি। তারপরও উপায় নেই কিছু করার। গার্মেন্টে চাকরি থেকে যে বেতন পান তাতেই কোন রকম চলে তাদের সংসার।

তারা আরো জানান, তাদের কপালে ছুটি জোটে দুই ঈদে। আর ঈদের ছুটি ছাড়া বাড়ি আসাও হয়ে ওঠে না। প্রত্যেক ঈদে

Top