ঢাকা, ||

নওগাঁর আত্রাই নদীর ৮টি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত: কৃষকদের মাঝে আতংক


রাজশাহী

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

৫০ হাজার লোক পানি বন্দি
নওগাঁর আত্রাই নদীর ৮টি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত: কৃষকদের মাঝে আতংক

রওশন আরা শিলা,নওগাঁ প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে আটটি স্থান ভেঙে গেছে। এরমধ্যে মান্দায় ৬টি, আত্রাইয়ে ১টি ও পতœীতলায় ১টি। বন্যার পানিতে জেলার রাণীনগর, আত্রাই, মান্দা, পতœীতলা, বদলগাছী, ও ধামইরহাট উপজেলায় তলিয়ে গেছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিন্মজ্জিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার লোক পানি বন্দি হয়ে গেছে। আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মান্দায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ছোট যমুন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নওগাঁ শহর রক্ষা বাঁধ উপচে এবং বাঁধের আউটলেট (নদী থেকে পানি বের করে দেওয়ার নালা) নওগাঁ শহরের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল থেকে সোমবার দুপুরে মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তীর সংরক্ষণ বাঁধের আটটি স্থান ভেঙ্গে যায়। উপজেলার বুুড়িদহ সুজনসখির ঘাট, শহরবাড়ী, চকবালু, কয়লাবাড়ি, দারিয়াপুর, চকরামপুর পার নুরুল্যাবাদ, নুরুল্যাবাদ উত্তরপাড়া ও কয়াপাড়া কলেজমোড় এলাকায় আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার প্রসাদপুর, নুরুল্যাবাদ, মান্দা সদর, বিষ্ণুপুর, কশব, পরানপুর, কালিকাপুর ও তেতুলিয়া ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফসলি মাঠ নিন্মজিত ও ভেসে গেছে লাখো টাকার মাছ। বাঁধের রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে জেলার আত্রাই উপজেলার সঙ্গে মান্দার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নওগাঁর ছোট যমুনা নদীতে পানি বিপদ সীমার ৮৮ সেন্টিমিটার, ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী আত্রাই নদী ১৭০ সেন্টিমিটার, মান্দায় আত্রাই নদী জোতবাজার ১১১ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীতে ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বর্তমানে অসহায় পরিবারগুলো বিশ্ববাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য বা ত্রাণ তাদের কাছে না পৌছায় মানবেতন জীবন যাপন করছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উঠায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফসলের ক্ষেত ডুবে যাওয়া কৃষকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

মান্দা উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের মতিউর রহমান বলেন, বন্যা নিন্ত্রয়ন বেঁড়ি বাঁধ রোববার ভেঙে যাওয়া এলাকায় পানি প্রবেশ করে। পানি বাড়তে থাকায় বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আমরা বাড়িটি পানিতে ডুবে গেছে। এখন সবাইকে নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করতে হচ্ছে।

মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকাবাসীদের জন্য ২৫ হাজার টাকা ও ৫ টন চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং এটি অব্যহত থাকবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, রবিবার পর্যন্ত জেলায় আউশ ও আমনসহ বিভিন্ন ফসলি জমির প্রায় ৮ হাজার ৫৭২ হেক্টর নিন্মজ্জিত ছিল। পানি বৃদ্ধি অনেক স্থানে রাস্তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বাঁধ ভেঙে গিয়ে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিন্মজ্জিত হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আমিনুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে দুই উপজেলার ২২ টি বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পানি নেমেগেলে আবারও শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া বন্যার কারণে কেউ যদি স্কুলে আশ্রয় নিতে চায় নিতে পারে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অনুমোতি দেয়া আছে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, নদীতে পানির চাপ থাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যখন রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত তখন আমাদের কিছুই করার থাকেনা।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান বলেন, ইত্যেমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে বন্যা কবলিত খোঁজখবর রাখা হয়। এছাড়া দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে সহেযোগীতা করার আশ্বাস দেন।#

 

রাণীনগরে বাঁধ ভেঙ্গে ১০টি গ্রাম প্লাবিত ॥ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি ॥ মাছ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রওশন আরাশিলা,নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদীর তিনটি স্থানে বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে নদী তীরবর্তি এলাকার প্রায় ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । এতে ওই এলাকার বাড়ী-ঘড় পানিতে অর্ধ নিমজ্জিত হওয়ায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে । ক্ষতি হয়েছে মাছ ও ফসলের । এছাড়া ছোট যমুনা নদীর নওগাঁ সদরের সাথে রাণীনগর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা আত্রাই উপজেলার যোগা-যোগের একমাত্র পাকা রাস্তার প্রায় চারটি স্থানে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে ।

জানা গেছে, গত ক’দিনের একটানা ভারি বর্ষন ও উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হঠাৎ করেই আত্রাই ছোট যমুনা নদীতে হু হু করে পানি বাড়তে থাকে । পানির চাপে রবিবার রাতে রাণীনর উপজেলার কৃষœপুর সরদার পাড়া,আলাউদ্দীনের ইট ভাটা,ঘোষগ্রাম ঠাকুর পাড়া ও মেরিয়া নামকস্থানে যমুনা নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যায় । এতে এক রাতেই ওই এলাকার কৃষœপুর,ঘোষগ্রাম,নান্দাইবাড়ী,মালঞ্চি,আতাইকুলা,হরিশপুর কুজাইল,মেরিয়াসহ নদী তীরবর্তি এলাকার প্রায় ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে । বন্যার পানি বাড়ী-ঘড়ে প্রবেশ করায় এলাকার উঁচু রাস্তা এবং কয়েকটি স্কুলে স্থান নিয়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। সংশ্লিষ্ঠ সুত্র মতে ওই এলাকার প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপিত ধান পানিতে তলে গেছে । পাশা-পাশি ওই এলাকার পুকুর ডুবে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে । বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল । এছাড়া নওগাঁ-আত্রাই পাকা রাস্তার রাণীনগর উপজেলার কুজাইল স্লুইচ গেইট,দূর্গাপুর,প্রেমতলি ও নান্দাইলবাড়ী নামকস্থানে ব্যপক ফাটল দেখা দিয়েছে । এই সকল স্থানে কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও গোনা ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এলাকার জনপ্রতিনিধসহ স্থানীয় লোকজন বালির বস্থা ভরাট করে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছেন। যে কোন সময় রাস্তা ভেঙ্গে গেলে এলাকার হাজার,হাজার হেক্টর জমির ফসলহানীসহ পানি বন্দি হয়ে পরবে প্রায় লক্ষাধীক মানুষ । বন্ধ হয়ে যাবে নওগাঁ সদরের সাথে আত্রাই উপজেলার যোগা-যোগ ব্যবস্থা।
এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড: আমিনুর রহমান বন্যা কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং সবাইকে বন্যার্তদের পার্শ্বে দ্বাড়ানোর আহ্বান জানান ।

এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান,ঝুঁকি পূর্ণ স্থানে ব্যাপক নজরদারি রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে । এছাড়া ওই এলাকায় চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে । তাছাড়া বন্যা কবলিত লোকজনের জন্য জরুরি ভাবে ৩ মেট্রিকট্রন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে । #

Top