ঢাকা, ||

ধর্ষণের শিকার সেই শিশুটির সন্তান মারা গেছে


আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

ভারতের মুম্বাইয়ে ধর্ষণের শিকার ১৩ বছরের শিশুটির নবজাতক ছেলেসন্তানের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার শিশুটির গর্ভপাত করানোর অনুমতি দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের জে জে হাসপাতালে ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই শিশু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেসন্তানের জন্ম দেয়। জন্মের পরই নবজাতকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়। এর দুই দিন পর গত রোববার তার মৃত্যু হয়।

ভারত সরকার ও ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রতি ১৫৫ মিনিটে ১৬ বছরের নিচের একজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। আর প্রতি ১৩ ঘণ্টায় ১০ বছরের নিচের একজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৫ সালে ১০ হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দেশটিতে ২৪ কোটি নারী রয়েছেন, যাঁদের ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে। ৫৩ দশমিক ২২ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ শিশুই পরিচিত ও কাছের মানুষদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ বছরের ওই শিশু তার বাবার সহকর্মীর কাছে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশুটি ভয়ে বাড়িতে এ ঘটনা কাউকে বলেনি। কিন্তু মেয়ে অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাচ্ছে দেখে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান বাবা-মা। গত ৯ আগস্ট চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, সে অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই সামনে আসে ঘটনাটি। এ ঘটনায় দিল্লির একজন আইনজীবী ওই শিশুর পক্ষে গর্ভপাতের জন্য আদালতে আবেদন জানান। বুধবার আদালত শিশুটির গর্ভপাত করানোর অনুমতি দেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা আরও দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করার কথা বললে আদালত তা নাকচ করে দেন। পরে শুক্রবার মুম্বাইয়ের জে জে হাসপাতালের প্রধান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অশোক আনন্দের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল শিশুটির অস্ত্রোপচার করেন।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অশোক আনন্দ বলেন, শিশুটি ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি ছেলেসন্তান হয়। নবজাতকের ওজন ছিল ১ দশমিক ৮ কেজি, যা খুবই কম। তবে নবজাতকের মা এখন ভালো আছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

নবজাতক ঠিক কী কারণে মারা গেছে, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটির ফুসফুসে সমস্যাসহ শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিল সমস্যা ছিল।

এর আগে গত আগস্টে ভারতের চণ্ডীগড়ে ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের একটি শিশু কন্যাসন্তানের মা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে শারীরিক দিক ও ঝুঁকি বিবেচনা করে শিশুটির গর্ভপাত করাতে পরিবারের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

গত মে মাসে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতাকে সৎবাবার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া ১০ বছর বয়সী এক শিশুর গর্ভপাত ঘটানো হয়। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (পিজিআইএমএস) চিকিৎসকেরা শিশুটির গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ভারতের আইন অনুযায়ী, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ২০ সপ্তাহ পর গর্ভপাত নিষিদ্ধ। নারী-পুরুষের আনুপাতিক বৈষম্য কমাতে এই কঠোর আইন করা হয়েছে। ভারতে দীর্ঘদিনের গেড়ে বসা প্রথা অনুযায়ী, দেশটিতে ছেলেসন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ কারণে মেয়েশিশুর ভ্রূণ হত্যার ঘটনা ঘটে। ২০ সপ্তাহ পর ভ্রূণের লিঙ্গ জানার পর এসব হত্যার ঘটনা ঘটে বলে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এ বিষয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকটি পিটিশন দাখিল করা হয়। এই পিটিশন দাখিল করা ব্যক্তিদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা কয়েকজন নারী রয়েছেন, যাঁরা ২০ সপ্তাহ পর গর্ভপাত করাতে চান। এ বিষয়টি আদালত সব সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়ে থাকেন।

Top