ঢাকা, ||

ধর্ষকদের শাস্তি দাবিতে উত্তাল সিরাজগঞ্জ


অপরাধ

প্রকাশিত: ১২:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল মধুপুরে চলন্ত বাসে তাড়াশের তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে অপর ২ আসামিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এসময় একজন সাক্ষীরও জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরআগে এ মামলায় আরও ৩ জন জবানবন্দি দিয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ ও তাড়াশ। আর শোকে কাতর স্বজনরা রয়েছেন লাশের অপেক্ষায়। বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমিনুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া ও মো. শামছুল হক আলাদাভাবে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক কাইয়ুম খান চৌধুরী।

এরা হলেন, বাসের চালক ময়মনসিংহের মির্জাপুরের শহিদুল ইসলামের ছেলে হাবিব, সুপারভাইজার একই এলাকার সুলতান আলীর ছেলে সফর আলী ওরফে গেদু। এছাড়াও একই বাসের আরেক হেলপার ময়মনসিংহের লিটন মিয়া ঘটনার সাক্ষী হিসাবে জবাববন্দি দেন। সে ঘটনার ২দিন পর ওই বাসে হেলপারী করতে গিয়ে ঘটনাটি বাসের স্টাফদের কাছে জানতে পেরেছিল বলে পুলিশকে জানান। উপ-পরিদর্শক বলেন, জবানবন্দি রেকর্ডের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম বুধবার দুপুরে নিজ অফিসে প্রেসব্রিফিং করেন। সেখানে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতকরণে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন নিহত তরুণীর মায়ের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এদিকে, বর্বরোচিত এ ঘটনার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তারা। বুধবার সকালে তাড়াশ প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এবং দুপুরে সিরাজগঞ্জ কোর্ট চত্বরে হৃদয়ে বন্ধু সভার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। এসময় বক্তারা এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের শাস্তি দাবি করেন। এদিকে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থান নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

অপরদিকে, চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহতের শোকাহত মা হাসনা হেনা বেগম মেয়ের জন্য কান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে বুধবার সকালে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রুপাদের বাড়ির চারিদিকে বন্যার পানি। তারপরও আশপাশের শত শত নারী-পুরুষ ওই বাড়িতে গিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। গ্রামের মানুষ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন অপরাধীদের। নিহতের ছোট বোন মাশরুফা আক্তার পপি বলেন, ৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে জাকিয়া সুলতানা রুপা ৪র্থ। বাবা মারা যাবার পর অনেক কষ্ট করে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স শেষ করে ভর্তি হয় ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজে। পড়াশোনায় মেধাবী রুপার স্বপ্ন ছিলো আইন বিষয়ে পড়ে আরো ভালো কিছু করার। কিন্তু সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় সংসারের দেখভালের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি তারা ২ বোন চাকরি নেয় ময়মনসিংহের ইউনিলিভার কোম্পানিতে। এদিকে, টাঙ্গাইলে অবস্থানরত রুপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে জানান, লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন আদেশ না হওয়ায় আমরা অপেক্ষা করছি।

ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন রূপা। চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় বনের মধ্যে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়। শনিবার লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন ও একটি হত্যা মামলা করে পুলিশ। গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সোমবার রাতে মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করে তার পরিবার। পরে রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ৩ জন মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর কারাগারে রয়েছে। এরা হলো- বাসের চালক ময়মনসিংহের মির্জাপুরের শহিদুল ইসলামের ছেলে হাবিব, সুপারভাইজার সুলতান আলীর ছেলে সফর আলী ওরফে গেদু, হেলপার কামাল হোসেনের ছেলে আকরাম হোসেন, হেলপার এমদাদুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন ও হেলপার মুক্তাগাছা উপজেলার নন্দীবাড়ির খোরশেদ আলীর ছেলে শামীম হোসেন।

Top