ঢাকা, ||

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা


অপরাধ

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

সৌদি আরব থেকে পাঁচদিন আগে বাংলাদেশে আসেন আকলিমা বেগম। এসেই জানতে পারেন তার স্বামী শাহীন আরেকটি বিয়ে করেছেন। এরপর থেকেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। গত রোববার গভীর রাতে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেন আকলিমা।

এ সময় তিনি তার সতীন রোকসানাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পুলিশ নিহত শাহীনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে এবং আহত রোকসানাও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার বটতলা নামক বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশ। জানা যায়, দীর্ঘদিন আকলিমা সৌদি আরবে ছিলেন। ঈদের কয়েকদিন আগে দেশে ফিরে এসে দেখেন তার পাঠানো টাকায় স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছেন। এর জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।

অভিযুক্ত আকলিমা বরগুনা সদর উপজেলার দুই নম্বর গৌরিচন্না ইউনিয়নের সুজাউদ্দিন খেয়াঘাটের পাশের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, তার স্বামী শাহীন বরগুনা জেলার সদর উপজেলার বদরখালী গ্রামের মুন্সীবাড়ির মৃত সগির মিয়ার ছেলে এবং গুরুতর আহত সতীন রোকসানা বরগুনার গৌরিচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা ডিবির ওসি আবদুল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে বটতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আকলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক আকলিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, শাহীনের প্রথম পক্ষের স্ত্রী আকলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকেন। তিনি প্রতি মাসে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতেন আর ওই টাকায় চলতো শাহিন। কিছুদিন আগে রোকসানাকে বিয়ে করে শাহীন। ওই খবর শুনে আকলিমা বিদেশ থেকে পাঁচ দিন আগে দেশে আসেন। কিন্তু সে মিরপুরের ওই বাসায় না গিয়ে অন্য বাসায় উঠেন। এরপর রোববার সন্ধ্যায় আকলিমা ওই বাসায় এসে শাহিন ও রোকসানাকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। পরে গভীর রাতে আকলিমা তাদের দুইজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যান।

Top