ঢাকা, ||

জলবায়ু তহবিলে স্বচ্ছতা ও যুব অংশগ্রহন নিশ্চিতের তাগিদ ববি ভিসির


Uncategorized

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

বরিশাল: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক বলেছেন, ‘ জলবায়ু তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে আজ কেন প্রশ্ন উঠবে? এটা আমাদের জন্য খুব লজ্জাজনক ব্যাপার। কিছু দুষ্ট মানুষের জন্য আমরা এই অপবাদ সইব না। জলবায়ু তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত সকল প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে যুব ও ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রকল্প পরিচালনা ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার যুবদের সম্পৃক্তকরণ ও ক্ষমতায়নে দিনব্যাপি কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসময় কথা বলেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘কৃষকদের এখনো অবহেলা করা হয়। কিন্তু তারাই আমাদের মুখে অন্ন জোগায়। জলবায়ু সহিষœু চাষাবাদে কৃষকদের উদ্ধুধ করতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনকে জুজুর ভয় না পেয়ে তাকে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে’।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভারমেন্টাল রিসার্চ’র সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নগরের নবগ্রাম রোডের জাহান কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু অর্থায়ন ও স্বচ্ছতায় স্থানীয় যুব সম্পৃক্তকরণ ও উদ্ভাবনী কৌশল’ বিষয়ক এই কর্মশালার আয়োজন করছে যুবনেতৃত্বের সংগঠনসমূহের জোট ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস।

অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধি আবুল বাশার, সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এণ্ড এনভারমেন্টাল রিসার্চ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সমন্নয়ক রউফা খাতুন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি আ: জলিল, ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সমন্নয়ক সোহানুর রহমান, সমন্নয়ক শাকিলা ইসলাম প্রমুখ।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের অর্ধশত তরুণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ট্রান্সপারেন্সি মেকানিজম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করে এবং তাদের নিজ কমিউনিটি ও যুব সম্প্রদায়ের উপর জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্রকল্পে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাদের দায়িত্ব ও অবদানের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে। স্থানীয় নীতিনির্ধারকরাও এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে তরুণদের প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইয়ুথ অন ওয়াটার অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী ও ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের প্রধান সমন্নয়ক সোহানুর রহমান জানান, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে ভুক্তভোগী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। যদিও মোট গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্র ০.৩% বাংলাদেশের অবদান, তবুও ভৌগোলিক অবস্থান, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা এবং উন্নত বিশ্বের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার অতি ঘনবসতির এই ক্ষুদ্র দেশটি। এছাড়া বন্যা, খরা, পাহাড় ধস, সাইক্লোনের মত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও অনেক বেশি। যার ফলে বাংলাদেশ বিশেষকরে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলকে মারাতœক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করে তুলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত বিশ্ব আমাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিভিন্ন জলবায়ু প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে তাদের দায় শোধ করছে। জলবায়ু তহবিল হচ্ছে মানুষসহ সব প্রাণির অস্তিত্ব, পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার তহবিল। যা কোন দান, অনুদান, খয়রাত (চ্যারিটি) নয়, বা ঋণ হতে পারেনা। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ন্যায্য প্রাপ্য বা হিস্যা। তবে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং প্রশমনকল্পে বেশকিছু পরিমাণে অর্থায়ন হচ্ছে, যদিও তা উন্নত বিশ্বের ঘোষিত অঙ্গিকারের তুলনায় অনেক অপ্রতুল’।

জলবায়ুযোদ্ধা সোহানুর মনে করেন, উপযোগী প্রকল্প ও তাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে জলবায়ু তহবিল পাচ্ছে না বাংলাদেশ। সুখের কথা হচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির বিষয়েও বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অনুকূল ধারণা পোষণ করে। কিন্তু বাংলাদেশে জলবায়ু তহবিলের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত যদি না করা যায়, যদি প্রকল্পের নামে টাকার অপচয়ের অভিযোগ ওঠে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আস্থায় চিড় ধরতে পারে। এতে তহবিলে অর্থায়ন বন্ধের দরুন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে পারে। সেটা হবে বিপদাপন্ন মানুষদের জন্য এক বাড়তি বিপর্যয়। তাই অপরিকল্পিতভাবে, স্থানীয় জনসাধারনের মতামত উপেক্ষা করে গৃহীত প্রকল্পের মাধ্যমে এ তহবিলের অর্থ কোনভাবেই নয়-ছয় করা যাবেনা। তহবিলের অর্থায়নে সচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করা গেলে এ তহবিলের সদ্ব্যব্যবহার ও যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই এই ক্ষেত্রে তরুণ তথা যুব সমাজের আগ্রহের বিষয়গুলো কি হতে পারে তারই তথ্য সংগ্রহের জন্যে এই অংশগ্রহণমূলক কর্মশালাটির উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভারমেন্টাল রিসার্চ’র সমন্নয়ক রউফা খানুম বলছিলেন, ‘যদিও উন্নয়ন প্রকল্প এবং জলবায়ু প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে । কিন্তু যে আওতায়েই জলবায়ু খাতে কাজ হোক না কেন এর অর্থ এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। আর এই প্রেক্ষিতেই ইউকেএইড ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় জলবায়ু অর্থায়নে এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা অর্জন কৌশল (সিএফটিএম) প্রকল্পের যাত্রা’। তিনি আরো জানান, সরকারি, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ইআরডির তৈরি ওয়েবসাইট এ ক্লাইমেট ফ্লাইন্যান্স এর নির্ধারক সংযুক্তি এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। জলবায়ু অর্থায়নে এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা অর্জন কৌশল (সিএফটিএম) প্রকল্প জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্লাইমেট চেঞ্জ স্টেক হোল্ডারদের (সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজি ও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, গবেষণা কেন্দ্র প্রভৃতি ) চিহ্নিতকরণ এবং তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করছে।

Top