ঢাকা, ||

জঙ্গি হামলা আর নিখোঁজ কি এক সুত্রে গাঁথা!


মতামত

প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০১৬

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার উত্তাপের হল্কা পৌঁছেছে দিল্লী অবধি। মিটিং চলছে একনাগাড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা, গুলশান ঘটনার পর থেকেই। শনিবার ভাততের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার মন্ত্রীসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছেন দফায় দফায়। যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করছেন বার বার, তবুও অংক মিলছে না। কারা এই সন্তাসের পিছনে মদদ দিচ্ছে, কারা দিচ্ছে রসদ আর টাকা পয়সা! কেউ বলছেন আল কায়েদা, কেউ বলছেন না, আইএস। কেউ বলছেন আল কায়দা কীভাবে সম্ভব! আল কায়দা তো সব দিক দিয়েই এখন খুব দুর্বল হয়ে গেছে। আর আইএস মনে হয় পুরোপুরি নয়, যগসুত্র থাকতে পারে। অথবা তাদের ভাবাদর্শে কেউ অনুপ্রাণীত হয়ে কাজ করলেও হিসেব কিছুটা মেলে।

যা হউক এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন শুধু বাংলাদেশই নয়, সাথে ভারতও। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে যে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪০৯৬ কিলোমিটার যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত দৈর্ঘ্য ২২১৭ কিলোমিটার। তাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাস রোধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে চাইছেন। যেমনটি ভারত করেছিল শ্রীলঙ্কায় তামিল জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই-র বাড়বাড়ন্তের সময়।

তৎকালীন ভারত আর শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীরা যোগাযোগ করতেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে। এটাকে নেহাত রীতি হিসেবে দেখা ভুল। এ ভাবে এগোলে সমস্যার সমাধান অনেক সহজে করা যায়। তাই ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলার পর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’।

বাংলাদেশে জঙ্গি বিরোধী অভিযান হলেই, জংগী আর জামায়াতের লোকেরা সীমান্ত পাড়ি দেয়, ঘাঁটি গাড়ে ওপারে। সময় সুযোগ বুঝে আসে বাংলাদেশে, অপারেশনে। তাই আগের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার মমতা নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘‘সীমান্তের জেলাগুলিতে অচেনা, সন্দেহভাজন লোক দেখলেই প্রশাসনকে খবর দিন’’। ‘খাগড়াগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক সোহেল মেহফুজ ওরফে হাতকাটা নাসিরুল্লা, কওসর ওরফে বোমারু মিজান, তালহা শেখ বা ইউসুফ শেখরা হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে তাড়া খেয়ে এ রাজ্যে ঢুকে পড়েছিল। তার পর ধীরে ধীরে এই রাজ্যে তারা জামাতুল মুজাহিদিন-বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সংগঠন গড়ে তোলে। বেশ কয়েক বার তারা লালগোলা সীমান্ত দিয়ে বোমা পাচার করেছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সোহেল মেহফুজ বা হাতকাটা নাসিরুল্লা মুর্শিদাবাদের লালগোলা, মালদহ, বর্ধমানের আসানসোল এবং বীরভূমেও বেশ কিছুদিন করে ঘাঁটি গেড়ে ছিল। কিন্তু মেহফুজ ধরা না পড়ায় ওই সব এলাকায় এখনও জেএমবি-র কোনও মডিউল সক্রিয় রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়’।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ঘুম হারাম করে দিয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম আর আইএস ঘেঁষা জেএমবি। আইএস এর পত্রিকা ‘দাবিক’-এর গত সংখ্যায় বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশে তারা একটা বড় ধরণের কিছু করবে। বাংলাদেশ সরকারের কাছেও এই বার্তা ছিল। তাই সরকার মসজিদে মসজিদে সতর্ক করে দিয়েছিলো। সবাইকে সাবধান থাকতে বলেছিল।

অবশেষে গুলশান ঘটনার পরে বাংলাদেশের জঙ্গিদের কার কার সাথে আইএস যগ আছে তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনেকের মাঝেই নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

গুলশানের ক্যাফেতে জঙ্গি হামলা দমনে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে অনেকেই নানা মন্তব্যে মুখরিত হয়েছেন। কেউ কেউ মনে মনে উৎফুল্ল হতে চেয়েছেন। কেউ বলেছেন অভিযান আগে করলে কিছু প্রাণ বাঁচলেও বাঁচতে পারতো। কোন কোন বিরোধী রাজনৈতিক দল বলতে চেয়েছেন যে, গণতন্ত্রহীনতাই জঙ্গিবাদের অন্যতম কারণ। কথাটা ধোপে টেকেনি।

অামেরিকা, ফ্রান্সসহ অনেকে গণতান্ত্রিক দেশেই এমন সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তাই বেলা শেষে বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, জাপান, অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসিহ অন্যন্যরা যখন বাংলাদেশের গুলশান সন্ত্রাসের ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপে সন্তোস প্রকাশ করেছে, পাশে থাকার অঙ্গিকার করেছে তখন অনেকেই তাদের কথার পাতা উল্টে ফেলেছেন।

ঢাকাস্থ বিদেশী দূতাবাসগুলো দেখেছে যে, জঙ্গি সন্দেহ করে সাথে সাথে পুলিশ ওদের পিছু নিয়েছিল। কিন্তু জঙ্গিদের শক্তি আন্দাজ করতে না পারায় চরম হোচট খাঁয়, পুলিশ অফিসারদের দু’টি মূল্যবান প্রাণ ঝরে যায়, আহত হন পুলিশের অনেকেই। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিলেট এলাকা থেকে কমান্ডোদের এনে অভিযান চালাতে সময় লেগে যায়। যদিও এর অনেক আগেই মানে রাত এগারোটার মধ্যেই জঙ্গিরা একে একে অপছন্দের…

Top