ঢাকা, ||

জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধ নিশ্চিত করুন পারস্পরিক সহযোগিতা


মতামত

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৬

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

সম্পাদকীয়

জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধ
নিশ্চিত করুন পারস্পরিক সহযোগিতা

জঙ্গিবাদ আজ আর কোনো দেশ বা অঞ্চলের সমস্যা নয়, এটি এক বৈশ্বিক সমস্যার রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সমৃদ্ধ দেশ ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেন রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আফ্রিকার কিছু দেশে প্রতিদিনই শত শত মানুষ খুন হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোও এই নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পর নিস শহরের মর্মন্তুদ হত্যাকা- বিশ্ববাসীকে রীতিমতো শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। বেলজিয়াম ও তুরস্কের বিমানবন্দরে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোর নাইট ক্লাবে হামলা, জার্মানিতে ট্রেনে হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় রেস্টুরেন্টে হামলাÑএই নিষ্ঠুরতার ছাপ কোথায় নেই? উপমহাদেশেও তাদের হিং¯্র থাবা বিস্তার করেছে। পাকিস্তানে তো হামেশাই ঘটছে হামলার ঘটনা। পবিত্র রমজান মাসে ও ঈদের দিনে বাংলাদেশেও এমন দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ভারতের মুম্বাইয়ের হোটেলে ও ট্রেনে হামলা হয়েছে। তাই বিশ্বনেতারা মনে করছেন, জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটনে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক উদ্যোগও জরুরি বিবেচিত হচ্ছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল-পেট্রাপোল সমন্বিত চেকপোস্টের উদ্বোধনকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে ‘জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আপনি নিজেকে কখনো একা ভাববেন না। ভারত সব সময় পাশে থেকে আপনাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সাধ্যমতো সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অনেক ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্যোগের চেয়েও আঞ্চলিক উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর হয়। দেখা গেছে, কোনো একটি ঘটনা ঘটিয়ে এক দেশের অপরাধীরা আরেক দেশে গিয়ে আত্মগোপন করে। ভারতের দুই নম্বর মোস্ট ওয়ান্টেড আবদুল করিম বা টু-া করিম দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আত্মগোপন করেছিল। আবার পশ্চিমবঙ্গে অনেক বাংলাদেশি জঙ্গি ধরা পড়েছে, যারা বাংলাদেশে নাশকতা করার পর সেখানে আত্মগোপন করেছিল। জঙ্গিরা যাতে এভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া জঙ্গিদের অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ রোধ করতেও দুই দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে বেনাপোলের আধুনিক চেকপোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখানে এমন সব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে, যাতে লুকিয়ে অস্ত্র আনার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যাবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আরো আটটি স্থলবন্দরে দ্রুত আধুনিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া অরক্ষিত সম্পূর্ণ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে, যেন কোনোভাবেই অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান দেশে না ঢুকতে পারে। শুধু ভারত নয়, মিয়ানমারের সঙ্গেও একই ধরনের সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের জঙ্গিরা রিক্রুট, প্রশিক্ষণ ও অর্থ সংগ্রহে মালয়েশিয়াকে ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর যেমন কঠোর ভূমিকা নিয়েছে, তেমনি কঠোর ভূমিকা যেন মালয়েশিয়ার সরকারও নেয়, সে জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। একইভাবে আলোচনা চালাতে হবে প্রতিবেশী অন্য দেশের সঙ্গেও। কারণ একটাই, আমরা কোনোভাবেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার দেখতে চাই না।

Top