ঢাকা, ||

চৌগাছায় অবৈধ পশু হাট উচ্ছেদ


খুলনা

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

চৌগাছায় অবৈধ পশু হাট উচ্ছেদ
পুনরায় হাট চালানোর চেষ্টা করা হলে হুমকির মুখে পড়বে চৌগাছা পৌর মেয়রের পদটি বললেন ইউএনও

চৌগাছা অফিস: যশোরের চৌগাছায় গত এপ্রিল মাস থেকে চালু হওয়া অবৈধ পশু হাটটি উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে যশোরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্ব ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ এ হাটটি উচ্ছেদ করা হয়। এসময় তার সাথে র‌্যাব, স্থানীয় থানা পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর বিপুল পরিমান সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এরআগেও চৌগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ভাম্যমান আদালত বসিয়ে অবৈধ এ হাটটি উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি জাকজমকপূর্ন পশু হাট চালু রয়েছে। চলতি বছরে যেটি ( ১৪২৫৬২৫০/ ) এক কোটি একচল্লিশ লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার দুই শত পঞ্চাশ টাকা ইজারা মূল্যে ডেকে নিয়েছে জাফর সাদিক নামে এক ব্যবসায়ি। হাটের ইজারা না পেয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ হাটের ইজারা ব্যবসায় জড়িত ডাবলু দেওয়ান নামে অপর এক ব্যবসায়ি চলতি বছরের ৪ এপ্রিল চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের সহযোগিতায় পৌর এলাকার জিওলগাড়ীতে একটি পশুহাট শুরু করেন। এই ব্যবসায়ি ওই পুড়াপাড়া হাটটি ইজারা নিতে ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতে পরবর্তীতে পুড়াপাড়া হাটের দিনের সাথে মিল রেখে রবি ও বুধবার নতুন এ হাটটি চালু করেন। বিষয়টি নিয়ে পুড়াপাড়া হাটের ইজারাদার খুলনার বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেন। একই সাথে হাই কোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। সেসময় বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে অবৈধ হাটটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস পারভীন। তখন হাটের ইজারাদার চৌগাছা কাঁচা (সবজি) বাজারে পশু হাটটির কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। পরবর্তীতে পুড়াপাড়া হাটের ইজারাদার রীট আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিলে আবারো জিওলগাড়ীতে হাট চালু করা হয়।
অতি সম্প্রতি কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে সপ্তাহে রবি ও বুধবার হাটের দিন নির্ধারন করা হলেও মঙ্গলবার থেকে ঈদ উল আযহা পর্যন্ত প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা হাটটি চালু রাখার ঘোষণা দেয় হাট কর্তৃপক্ষ।
হঠাৎই মঙ্গলবার যশোরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমান চৌগাছার জিয়েলগাড়িতে চলমান হাটটি উচ্ছেদ করেন। এব্যপারে তিনি বলেন, ‘সরকারী নিয়ম-নীতি না মেনে অবৈধভাবে এখানে হাট বসানো হয়েছিল। হাটটি সরকারি পেরিফেরিভুক্ত নয় এবং ইজারাও হয়নি। যে কারনে সরকারী নির্দেশে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এটি উচ্ছেদ করা হলো।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাটের পক্ষে চৌগাছা পৌর মেয়র এসেছিলেন। তবে তিনি এর স্বপক্ষে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি।’
উচ্ছেদের সময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে ছিলেন র‌্যাব-৬ এর ডিএডি সোহেল আহমেদ, এসআই মিলন মিয়া, সার্জেন্ট মোজাম্মেল হোসেন, চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আকিকুল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্য।


এব্যপারে চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, ‘আদালত যেহেতু হাট উচ্ছেদ করেছে সেহেতু আমরা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আবার হাট চালু করার চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, হাট উচ্ছেদের কারন আমি জানি না। এবং এ সম্পর্কে কোন নির্দেশনাও আমাকে দেওয়া হয়নি। তবে উচ্ছেদের কারন সম্পর্কে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আমাকে জানিয়েছেন, যেহেতু হাটটি অবৈধ তাই এটি উচ্ছেদ করা হলো। ’ হাটটি কেনো অবৈধ এবং অবৈধ হলে কেনো এতোদিন চললো জানতে চাইলে মেয়র বলেন, হাটটি অবৈধ নয়। পশু বিক্রেতাদের সুবিধার্থে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটাও অবৈধ কিনা জানতে চাইলে মেয়র বলেন, সদ্য আমরা ঐ হাটের স্থানটি প্যারিফেরির আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস পারভীন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসক মহোদয় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অবৈধ হাটটি উচ্ছেদ করেছেন। তিনি আরো বলেন, চৌগাছা পেরিফেরির মধ্যে কোথাও অবৈধ হাট বসানোর চেষ্টা করলে হুমকির মুখে পড়বে চৌগাছা পৌর মেয়রের পদটি। বিভাগীয় কমিশনারকে উদ্ধৃত করে জানালেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

Top