ঢাকা, ||

চোখের জলে রূপাকে বিদায়


জাতীয়

প্রকাশিত: ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা, চোখের জলে রূপাকে বিদায়

রূপা খাতুনবেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের পাঁচ দিন পর নিজ গ্রামে নিজ পরিচয়ে শায়িত হলেন রূপা খাতুন। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে সেখানে এক বেদনাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানান স্বজনেরা।

গত শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করেন কয়েকজন পরিবহনশ্রমিক। পরে তাঁর লাশ টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই রূপার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন শনিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রূপার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ওই দিনই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তাঁকে দাফন করা হয়। গত সোমবার রূপার বড় ভাই মধুপুর থানায় গিয়ে সেখানে সংরক্ষিত রূপার ছবি ও কাপড় দেখে লাশটি তাঁর বোনের বলে শনাক্ত করেন।

রূপার ভাই হাফিজুর রহমান বোনের লাশ টাঙ্গাইল থেকে তাঁদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বুধবার মধুপুর থানায় আবেদন করেন। পুলিশ আবেদনটি টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠিয়ে দেয়। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার রূপার লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আদেশ দেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান প্রামাণিক লাশ বুঝে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

রূপার লাশ বাড়িতে যাবে জানতে পেরে এলাকার লোকজন বিকেল থেকেই তাঁদের বাড়ির পাশে জড়ো হতে থাকে। সন্ধ্যা ছয়টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর লাশ আসানবাড়ি গ্রামে পৌঁছায়। রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ছোট ভাই মো. রোমান তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করেন। আসামিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন সমবেত নারী-পুরুষেরা।

রূপার লাশের কফিনটি রাখা হয় তাঁর বাড়ির পাশের একটি মাঠে। কিছুক্ষণ পর রূপার দুই বোন সেখানে আসেন। কফিনকে জড়িয়ে ধরে তাঁরা আহাজারি করতে থাকেন। তাঁদের এই বাঁধভাঙা কান্নায় স্তব্ধ হয়ে যান সমবেত মানুষ। এ সময় তাঁর মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

মাগরিবের নামাজের পর রূপার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে গ্রামের কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।

এদিকে রূপাকে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে গতকাল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, একজন নারীকে এভাবে পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার ঘটনাটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। তাঁকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল, সঠিক মেডিকেল রিপোর্ট সম্পন্ন ও প্রমাণাদি আদালতে দাখিল করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রূপাকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় নারী সেল এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম।

এ ঘটনায় ছোঁয়া পরিবহনের বাসটির চালক, সুপারভাইজার, তিন সহকারীসহ মোট পাঁচজনকে এর আগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Top