ঢাকা, ||

চমক বেশি ছিলো বিটিভির আয়োজনে


বিনোদন

প্রকাশিত: ৮:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

ছোট পর্দার প্রথম তিনদিনের ঈদ

চমক বেশি ছিলো বিটিভির আয়োজনে

বিটিভির অন্যতম চমক সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান

প্রতিবারের মতো এবারও বর্ণিল আয়োজনে ঈদের নানা পসরা সাজিয়েছে দেশের টিভি চ্যানেলগুলো। বেশিরভাগ চ্যানেলেরই আয়োজন সাতদিনের। এরই মধ্যে পার হয়েছে তিনদিন। এই সময়ে চ্যানেলগুলো নাটক, চলচ্চিত্র, টকশো, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, গানের অনুষ্ঠান, শিশুতোষ অনুষ্ঠান, লাইভ শোসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। এসবের মধ্যে বিটিভির আয়োজনে চমক ছিল বেশি। নাটকের ক্ষেত্রে এবারও সিক্যুয়াল ও ধারাবাহিকের আধিক্যের বিষয়টি ছিলো লক্ষণীয়। বেশিরভাগ চ্যানেলই দর্শকপ্রিয় সিক্যুয়াল ও ধারাবাহিক নাটক প্রচার করেছে। কমেডি নির্ভর নাটকই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে কোরবানি নিয়েও কিছু নাটক প্রচার হয়েছে। গত তিনদিনের হিসেব নিকেষ তাই বলে। নাটকের পাশাপাশি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের প্রতিও দর্শকদের ঝোঁক ছিলো বেশ। এছাড়া রাতে লাইভ গানের অনুষ্ঠানগুলোও ছিলো দর্শকপ্রিয়তায়। প্রায় প্রতিটি চ্যানেলই পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র প্রচার করেছে প্রতিদিনই। অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্য তৈরির চেষ্টা ছিলো চ্যানেলগুলোর। তবে এবারও অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন লক্ষ্য করা গেছে প্রায় সব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই। এর ফলে একটি ৪৫ মিনিটের অনুষ্ঠান পুরোপুরি দেখার জন্য দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারপরও চ্যানেলগুলোর বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান তৈরির বিষয়টি বাহবা কুড়িয়েছে। এবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রচার হওয়া বেশ কিছু অনুষ্ঠান ছিলো ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তায়। এর মধ্যে চিত্রনায়ক রিয়াজ ও অভিনেত্রী-নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনের উপস্থাপনায় ঈদের দিন রাত ১০টার ইংরেজি সংবাদের পর প্রচারিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’ ছিলো প্রশংসা পাওয়ার মতো। নাটিকা, গান ও নৃত্য দিয়ে বৈচিত্র্যে ভরা এ অনুষ্ঠানটি প্রাণভরে উপভোগ করেছেন দর্শকরা। একই চ্যানেলে ঈদের দ্বিতীয় দিন রাতে প্রচার হয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘পরিবর্তন’।

আনজাম মাসুদের গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিকল্পনায় বিভিন্ন সেগমেন্টে সাজানো এ অনুষ্ঠানটি প্রশংসিত হয় দর্শকমহলে। এছাড়াও ঈদের দিন সন্ধ্যায় প্রচারিত রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান ‘তোমাদেরই গান শোনাবো’ এবং ঈদের পর দিন প্রচারিত সাবিনা ইয়াসমিনের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘চিরদিনের সাবিনা’ ছিলো চ্যানেলটির অন্যতম চমক। এ দুই কিংবদন্তির গান বেশ উপভোগ করেছেন শ্রোতা-দর্শকরা। ঈদের পরদিন চ্যানেলটিতে প্রচার হওয়া নাটক ‘মোহাম্মদি বেগ হাজির’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এটিএন বাংলায় ঈদের দিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে প্রচার হয় হানিফ সংকেতের রচনা ও পরিচালনায় নাটক ‘ভুল কারো না-ভুল ধারণা’। মীর সাব্বির, বন্যা মির্জা, সারিকা প্রমুখ অভিনীত নাটকটি ছিলো বেশ উপভোগ্য। এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও মাহফুজ আহমেদের পরিচালনায় ঈদের দিন সকালে প্রচারিত ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’ ছিলো প্রশংসিত। এদিকে এটিএনবাংলার উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিলো ঈদের দিন প্রচারিত ইভা রহমানের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘মনের মাঝে তুমি’, ঈদের দ্বিতীয় দিন ফাগুন অডিওভিশন নির্মিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘পাঁচফোড়ন’, চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় নাটক ‘কালো চিঠি’, ঈদের তৃতীয় দিন প্রচারিত ড. মাহফুজুর রহমানের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’।
চ্যানেল আই ঈদের প্রথম তিনদিন প্রচার করেছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে ঈদের পর দিন বিকেলে শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনায় প্রচারিত কৃষকদের নিয়ে আয়োজিত গেইম শো ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ ছিলো এবারও খুব আকর্ষণীয়। এছাড়া ঈদের আগের দিন প্রচার হওয়া রেজানুর রহমানের নাটক ‘শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই’ এবং একই দিন থেকে শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের ‘ছোটকাকু’ সিরিজের ৮ পর্বের নাটক ‘ঢাক বাজল ঢাকায়’ বেশ প্রশংসা পেয়েছে। পাশাপাশি চ্যানেল আইতে ঈদের প্রথম দিন আবুল হায়াত পরিচালিত ‘প্রাণবন্ত পৃথক পুরুষ’ ও সালাহউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় ‘সোনাবানু’ নাটক দু’টি প্রশংসিত হয়েছে। প্রশংসা পেয়েছে ঈদের প্রথম দিন প্রচারিত ‘শেষ কথা’, দ্বিতীয় দিন ‘টু বি কনটিনিউ’ এবং তৃতীয় দিন প্রচারিত ‘পরবাসিনী’ চলচ্চিত্রগুলোও। একুশে টিভিতে প্রচারিত সাত পর্বের ঈদ সেলিব্রেটি টক শো ‘তারকার হাট’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও একই চ্যানেলে প্রচারিত সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘গরিব কেন কাঁদে’ এবং সাত পর্বের আরেক ধারাবাহিক ‘হানিমুন প্যাকেজ’ ছিলো দর্শকপ্রিয়তায়। বাংলাভিশনে ভিন্ন আঙ্গিকের অনুষ্ঠান ‘আমাদের কথা’ প্রচার হয়েছে গতকাল ঈদের তৃতীয় দিন বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে। দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক দম্পতির আনন্দ আড্ডার এ অনুষ্ঠানটি বেশ উপভোগ্য হয়েছে। মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী দম্পতির উপস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক দম্পতি মাহফুজ আনাম ও শাহীন আনাম এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক দম্পতি নঈম নিজাম ও ফরিদা ইয়াসমিন। একই চ্যানেলে সাগর জাহানের রচনা ও পরিচালনায় সাত পর্বের ধারাবাহিক ‘ম্যারিড লাইফ এ অ্যাভারেজ আসলাম’ এর দর্শকপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। নাটকটিতে মোশাররফ করিমের অভিনয় তাক লাগিয়েছে আরো একবার। অন্যদিকে রাজিবুল ইসলাম রাজিবের রচনা ও পরিচালনায় সাত পর্বের ধারাবাহিক ‘ব্লাফ মাস্টার’ও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও ঈদের দিন রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে প্রচার হওয়া জাহিদ হাসানের নাটক ‘মি. জ্যাক্স-২’ ছিলো আলোচনায়। এনটিভিতে ঈদের দিন প্রচারিত তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় টেলিফিল্ম ‘মেঘের আড়ালে মেঘ’ মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। একই চ্যানেলে ঈদের দিন প্রচারিত মাসুদ সেজানের ‘অ্যাবনরমাল’ও ছিলো আলোচনায়।
আরটিভিতে ঈদের দিন প্রচারিত মোশাররফ করিম অভিনীত ‘ঘাউরা মজিদ হানিমুনে’ দর্শকদের নজর কেড়েছে। একই চ্যানেলে ঈদের পরদিন প্রচারিত ‘মাখন মিয়ার উদার বউটা’, এবং টেলিছবি ‘অধিক কৌতূহল ভালো নয়’ ছিলো প্রশংসিত। দেশ টিভিতে ঈদের দিন প্রচারিত ‘টু বি অর নট টু বি’ দর্শকমহলে আলোচনায় ছিলো। এছাড়াও একই চ্যানেলে ঈদের দ্বিতীয় দিন প্রচারিত ‘দূরবীক্ষণ যন্ত্র’ এবং তৃতীয় দিন প্রচারিত নাটক ‘১০ নাম্বার বিপদ সংকেত’ ছিলো আলোচিত। মাছরাঙা টিভিতে ঈদের দিন প্রচারিত টেলিছবি ‘উচ্চতর হিসাববিজ্ঞান এবং দ্বিতীয় দিন প্রচারিত ‘নেটওয়ার্ক বিজি’ দর্শক পছন্দ করেছে। সেসঙ্গে এই চ্যানেলে প্রচার হওয়া ‘স্টার নাইট’, ‘লাইভ কুইজ’, ‘ম্যাড ক্যাফে’ অনুষ্ঠানগুলো ভালো লেগেছে। অন্যদিকে বৈশাখি টিভিতে ঈদের দ্বিতীয় দিন প্রচার হওয়া ‘দাদার দেশের ডাক্তার’ ছিলো আলোচনায়। একই চ্যানেলে একই দিন প্রচারিত ‘মায়া’ শীর্ষক নাটকটিও ছিলো প্রশংসিত।
ঈদের দিন জিটিভিতে প্রচারিত ‘হ্যাপী ফ্যামেলি’ এবং নুহাশ হুমায়ূনের ‘হোটেল অ্যালবাট্রাস’ ছিলো প্রশংসিত। ঈদের দ্বিতীয় দিন এসএ টিভিতে প্রচারিত টেলিছবি ‘জবরদস্ত’ ছিলো আলোচনায়। এছাড়াও একই দিন প্রচারিত ‘বিশুদ্ধ প্রেম’ নাটকটিও ছিলো প্রশংসিত। চ্যানেল নাইনে ঈদের দিন প্রচার হওয়া ধারাবাহিক নাটক ‘জাদুর বাক্স’ ছিলো আলোচনায়। অন্যদিকে একই দিন প্রচারিত ‘আবদুস সুলতান’ নাটকটিও দর্শকরা পছন্দ করেছে। এশিয়ান টিভির ঈদের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ‘নেদ্রীদের ঈদ আনন্দ’।
দেবাশীষ বিশ্বাসের উপস্থাপনায় ঈদের দিন সন্ধ্যায় প্রচারিত এ অনুষ্ঠানটি পছন্দ করেছেন দর্শকরা। একই দিন চ্যানেলটিতে প্রচার হওয়া নাটক ‘কেরানি বনাম কার্নেগী’ ছিলো প্রশংসিত। গানবাংলা চ্যানেলের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ‘উইন্ড অব চেঞ্জ-সিজন-২’। বিদেশি যন্ত্রশিল্পীদের সঙ্গে দেশীয় কণ্ঠ শিল্পীদের এই পরিবেশনা ছিলো মনোমুগ্ধকর। দীপ্ত টিভিতে ঈদের দিন প্রচারিত ‘বৌ শাশুড়ি বাড়াবাড়ি’ এবং ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল-দ্য সেলফি হিরো’ ছিলো বেশ উপভোগ্য।

Top