ঢাকা, ||

উঠতে বসতে বাঙালির বাঁশময় যে জীবন


মতামত

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৬

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

জায়গার নাম বাঁশখালী। এটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। যেখানে শুধুই বাঁশ পাওয়া যায়, নাকি সব বাঁশ ঝাড়ে-বংশে খালি হয়ে গেছে, সেটা একটা জটিল ধাঁধা। তবে যে জায়গার নামের সঙ্গে বাঁশ-এর যোগ আছে, সেখানে বাঁশের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ কিছুটা ঘটবে-এটাই স্বাভাবিক। এখানে ঘটছেও তাই।

এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ার তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে আগুন দিয়ে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। একটি পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মেরে সংখ্যালঘুদের অধিকার, একই সঙ্গে মানবাধিকারের চেতনায় বাঁশ দেওয়া হয়!

সেই বাঁশখালী আবারও রক্তাক্ত কলঙ্কিত হয়েছে। এবার বাঁশখালীতে বেসরকারী উদ্যোগে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে গত ৪ এপ্রিল আয়োজিত স্থানীয় জনগণের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি বর্ষণে চার ব্যক্তি (মতান্তরে ছয় ব্যক্তি) নিহত ও দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছে। বাঁশখালীতে প্রতিবাদী জনগণের উপর এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা-ক্ষমতাসীনদের জন্য ‘বাঁশ’ দেখা দেয় কি-না এখন সেটাই দেখার বিষয়!

মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঁশ। জন্মের পর মা-খালা, নানি-দাদিরা যে দোলনায় চাপিয়ে দোল দিতে দিতে আমাদের গান শুনিয়েছেন, সেই দোলনা তো বাঁশেরই তৈরি ছিল। আবার মৃত্যুর পর বাঁশের খাটিয়াতে চড়েই যেতে হবে। দাফনের পর মাটিচাপা দেয়ার আগেও বাঁশ লাগবে। অর্থাৎ জীবনের কোনো প্রান্তেই বাঁশ থেকে মুক্তি নেই। কিংবা বলা যেতে পারে, আমাদের জীবন কোনোভাবেই বাঁশমুক্ত নয়।

আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঁশ। আমাদের সাহিত্যে বাঁশের ব্যবহার আছে। এক কবি লিখেছেন, ‘বাঁশ থেকে হয় শক্ত লাঠি/বাঁশ থেকে হয় বাঁশি/বাঁশির সুরেই রাধার মুখে/উঠত ফুটে হাসি।’ রাধা-কৃষ্ণের অমর প্রেমকাহিনীর সঙ্গেও কী চমৎকারভাবে জড়িয়ে গেছে বাঁশ! বাঁশ থেকে যে বাঁশি তৈরি হয়, সেই বাঁশিতে সুর তুলতেন কৃষ্ণ। সেই সুরের টানে ঘর ছেড়ে বের হতেন রাধা।

‘বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই’ এক সময় এই কবিতাটি বাঙালির মুখে মুখে ফিরত।

আমাদের ইতিহাসের সঙ্গেও বাঁশের যোগ রয়েছে। যেমনটি লিখছেন সেই ব্যর্থ কবি, ‘তিতুমীরের কেল্লারে ভাই/কেল্লা ছিল বাঁশের/বংশজাত কেল্লাটা আজ/অঙ্গ ইতিহাসের।’ গেল শতকে ‘তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা’ নামে একটি ছায়াছবিও নির্মিত হয়েছিল। বাঁশ কোথায় থাকে? কবির ভাষায়, ‘বাঁশি থাকে হাতের মুঠোয়/বাঁশ থাকে বাঁশঝাড়ে/ রাত্তিরে সেই বাঁশের লাঠি/চৌকিদারের ঘাড়ে/উঠলে সেটা চোরছ্যাঁচোড়ের/জন্য ভীষণ ত্রাস…।’ আজকের দিনে চৌকিদারের সেই কার্যকারিতা আছে কি না, সেটা বলতে পারবে গ্রামের লোকজন। কিন্তু বাঁশের কার্যকারিতা ফুরিয়ে যায়নি।

বাঁশ জিনিসটা যে অতি প্রয়োজনীয় সেটা আমরা যেমন বুঝেছি, আমাদের মতো বিদেশীদের কাছেও বাঁশ অতি প্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আজকের দিনে যখন ‘পরিবেশবান্ধব’ কথাটা সবার কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে, তখন বাঁশও প্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বাঁশের ভিন্ন রকম ব্যবহার করে দেখিয়েছেন জার্মানির উদ্ভাবকরা। প্রাকৃতিক এই উপাদান দিয়ে সেখানে তৈরি হয়েছে বাইসাইকেল। একটি প্রতিষ্ঠান বাঁশের উপাদান দিয়ে সাইকেল তৈরি করতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কশপে সাইকেল তৈরির উপাদান যেমন বাঁশ, তেমনি যেসব উপকরণ ব্যবহার করে বাঁশকে সাইকেল তৈরির উপযোগী করা হয়, সেগুলোও নাকি বাঁশের তৈরি।

এই ব্যাম্বু-মেড সাইকেল নাকি অন্যান্য দেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জার্মানির দেখাদেখি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ঘানা, জাম্বিয়া, সিঙ্গাপুরেও নাকি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বাঁশের সাইকেল তৈরির প্রতিষ্ঠান। বলা যায় না, কিছুদিনের মধ্যে ওই ব্যাম্বু-সাইকেল আমাদের দেশেও চলে আসতে পারে। হয়তো আগামী দিনে যান্ত্রিক বাহনেও দেখা যাবে বাঁশের উৎকৃষ্ট ব্যবহার।

বাঙালির জীবনের সঙ্গে বাঁশ জড়িয়ে আছে। আগেকার দিনে ঘর-গৃহস্থালির নানা কাজে বাঁশ ব্যবহৃত হতো। সম্পন্ন গৃহস্থের বাড়িতে বড় বড় ধানের গোলা দেখা যেত। সেই গোলা তৈরি করতে বাঁশ লাগত। ঘরের খুঁটি দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো বাঁশ। আজকের দিনের মতো ব্যাংক যখন ছিল না, তখন গ্রামের প্রান্তিক মানুষের টাকা-পয়সা সঞ্চয়ের জন্য বাঁশের খুঁটিই ছিল নির্ভরযোগ্য জায়গা। একবার ঢুকিয়ে দিতে পারলে সেখানে তো গিন্নির হাতও যাবে না।

বাঁশের ঝুড়ি এখনো ব্যবহৃত হয়। চাষির মাথায় যে মাথাল ব্যবহৃত হতে দেখা যেত, সেটাও তৈরি হতো বাঁশ দিয়ে। জমিতে যে বেড়া দেয়া হতো, তার প্রধান উপাদান ছিল বাঁশ। যদিও ‘বেড়ায় ক্ষেত খেলে’ তার দায় বাঁশের ওপর বর্তায় না। বাঁশের বেড়ার ঘরও অনেক দেখতে পাওয়া যেত গ্রামে। এখন হয়তো তা আর দেখা যাবে না। শখের বাগানবাড়িতে কেউ কেউ বাঁশের ঘর তৈরি করে রাখতে পারেন। রাখালের হাতে বাঁশির সঙ্গে থাকত লম্বা বাঁশের লাঠি। সেসব দিন তো প্রায় উঠেই গেছে।

আগেকার দিনে জমিজমাসংক্রান্ত কাজিয়া লেগেই থাকত। সেই কাজিয়াতে ব্যবহার করা হতো লাঠিয়ালদের। বাঁশের লাঠি-লড়ি ছিল সেই কাজিয়ার প্রধান উপজীব্য। এখন লাঠিখেলা একটি শিল্পসম্মত ক্রীড়া। কুষ্টিয়ার ওস্তাদ ভাই ছিলেন এই লাঠিখেলার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লাঠিখেলাকে তিনি তুলে এনেছিলেন রাজধানীতে। বিদেশেও আমাদের লাঠিখেলা কদর পেয়েছে। লাঠিখেলার লাঠি বাঁশের তৈরি। এই লাঠি তৈরি করা সহজ কাজ নয়।

সময়ের পরিবর্তনে বাঁশের ব্যবহারেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এমনকি বাঁশ শব্দের ব্যবহারেও পরিবর্তন লক্ষ করি আমরা। কারো বাঁশ যাচ্ছে, কেউ বাঁশ খাচ্ছে, কেউ বাঁশ দিচ্ছে। কোনো ঘটনা কারো জন্য বাঁশ হয়ে যাচ্ছে। অমুক বাঁশ খেয়েছে, অমুক বাঁশ দিয়েছে, অমুক সেধে বাঁশ নিয়েছে- এমন অনেক কথা আমরা শুনে থাকি। এই বাঁশ খাওয়া-নেয়া-দেয়ার বিষয়টির সঙ্গে অনেকের বংশানুক্রমিক সম্পর্কও রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ কেউ বাঁশ খেতে, দিতে ও নিতে অভ্যস্ত।

বাঁশ বিষয়ে অনেক আগে শোনা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কৌতুক এখনো কানে বাজে। সমাজের এক প্রভাবশালী মানুষ, যিনি বাঁশ দিতে অভ্যস্ত। কিন্তু সেই বাঁশ কেমন বাঁশ, সেখানেই কৌতুকের মজা। ছোটবেলায় তেলমাখা বাঁশ বেয়ে বানরের উঠে যাওয়া ও নেমে আসার অঙ্ক তো অনেককেই করতে হয়েছে। কিন্তু একটি তেলমাখা বাঁশে একটি বানর কেন উঠতে যাবে, সে রহস্য আজ পর্যন্ত উন্মোচিত হয়নি। অঙ্কটা যে ছাত্রজীবনে অনেকের জন্য বাঁশ ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইংরেজিতে একটি শব্দ আছে ব্যাম্বুজল, যার অর্থ ‘ধোঁকা/ধাপ্পা দেওয়া, বোকা বানানো, ছলনা করা’ ইত্যাদি। বাঁশের ইংরেজি ব্যাম্বু। ছলনা, প্রবঞ্চনা, ধোঁকাও তাহলে এক ধরনের বাঁশ!

বাঁশ যতই উপকারী হোক, হোক ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, বাঁশের এই ‘দেওয়া-নেয়া-খায়া’ জাতীয় ব্যবহার আমাদের জন্য খুবই বিপদের কথা। কারো বাঁশ যাক, কেউ বাঁশ খাক- এটা আমরা চাই না। চাই না সুযোগ বুঝে কেউ বাঁশ দিক। কিন্তু আমাদের মতো আম-আদমির চাওয়ায় তো কিছু এসে যায় না। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অর্থনীতি বাঁশকবলিত। জাতি বাঁশ খাচ্ছে। যাঁরা বাঁশ দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বোধোদয় না হলে এই বাঁশ থেকে আমাদের মুক্তি নেই। কিন্তু জাতিকে বাঁশ দিতে যাঁদের সুখ, সহজে কি তাঁদের বোধোদয় হবে?

বাঁশ বাংলাদেশের একটি অবহেলিত উদ্ভিদ। বাঁশ চিনেনা এমন চালাক মানুষ বাংলাদেশে অন্তত একজনকেও পাওয়া যাবেনা। বাঁশের সাথে পুরো দুনিয়ার মানুষ সকলেই কম বেশী পরিচিত। তেলাপোকার পাখা গজানোর পরে কখনও সে নিজেকে পাখি দাবী করে। সেভাবে বাঁশ এক প্রকার ঘাস হবার পরও সে তাল গাছের উপরে উঠে কবির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। ঘাসকুলের মাঝে একমাত্র বাঁশের সম্ভ্রান্ত কিংবা উঁচু বংশের চরিত্র আছে বলে তাকে মানবজাতি কখনও ভুল করে গাছ বলে ভ্রম করেন। আসলে বাঁশ এক প্রকার উচ্চশ্রেণীর ঘাস।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে বাঁশ একটি সহজলভ্য মূল্যবান সম্পদ। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতায় তালগাছের মোটামুটি একটু সম্মান দিলেও; বাংলাভাষায় আর কোন কবিকে এমন পাওয়া যায় না, যিনি একটি কিংবা একক গাছ নিয়ে কিছু লিখেছেন। তবে ফলদার বৃক্ষের ফল ও ফুল নিয়ে অনেক কবি-সাহিত্যিক তাদের মূল্যবান রচনা লিখেছেন। যতীন্দ্র মোহন বাগচী তার কবিতায় বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ দেখেছেন। এখানে বাঁশ মুখ্য বিষয় ছিলনা, কবির কাছে মুখ্য বিষয় ছিল চাঁদ। বিভিন্ন প্রকারের ফল-ফুলের রচনা সমৃদ্ধ কাহিনী শিশুতোষ সাহিত্যে ছড়িয়ে থাকলেও বাঁশ কোনদিনই কবি-সাহিত্যিকের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি।

বাঁশ আর মানুষের বন্ধুত্ব, বাঁশের জন্মের পর থেকে শুরু হয়। বাঁশ মানুষকে ভালবেসে সহযোগিতা করলেও মানুষের কাছে বাঁশ কোনদিন গুরুত্ব পায়নি। কেননা বাঁশের কোন রস নাই, ফল নাই, বিচি নাই এমন কি সে সহজে ফুলও দেয়না, পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া যায়না। বড়জোর দু’একটি সন্তান জন্ম দিয়েই তার অবদান শেষ করে। মানুষ আজীবন জীবিত ও মৃত বাঁশের দেহ দিয়েই নিজের মত করে উপকার সেরে নেয়।

বাংলাদেশে বহু প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায় যেমন, মূলী, মিতিয়া, ছড়ি, আইক্কা, বাইজা, বররা, মাকাল, তল্লা বাঁশ ইত্যাদি। এই নাম গুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের মত করে দেওয়া। মোটা, চিকন, লম্বা, পুরুত্ব ও ভিতরের ফাঁপা অংশ মিলিয়ে বাঁশের বিভিন্ন নাম ও প্রজাতি ঠিক করা হয়। ব্যবহারের ক্ষেত্রে ও স্বাস্থ্যগত বিচারে স্বাস্থ্যবান, স্বাস্থ্যহীন, রুগ্ন, শিশু, জীবিত ও মৃত সকল বাঁশই মানুষের জন্য উপকারী। মানব জীবনের সর্বাবস্থায় যে বাঁশ এত উপকারী, সে বাঁশ এখনও বাংলাদেশের অর্থকড়ি সম্পদের মধ্যে গণ্য হয়নি, এটা বাঁশের প্রতি একটি রাষ্ট্রীয় অবহেলা ছাড়া আর কিছু নয়।

বাঁশের ব্যবহারের কোন কমতি নাই। হিরোইন, আফিম, গাঁজা, তামাক গুল্ম থেকে উৎপন্ন হলেও সেগুলো চাষ ও সংরক্ষণ অবৈধ। সে হিসেবে বাঁশ কোন অবৈধ উদ্ভিদ নয়; তবে বাঁশের ব্যবহারের উপর নির্ভর করে কদাচিৎ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বাঁশকেও অস্থায়ী ভাবে অবৈধ বলে থাকেন। স্থায়ী ব্যবহারের মাঝে বাঁশের মেলা কদর! যেমন, বাঁশ দিয়ে কবিরাজেরা বংশলোচন ঔষধ তৈরি করে। বাঁশ দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ লিখতে শিখে। বাঁশের বেত দিয়ে পিটিয়ে গাধা মার্কা ছাত্রকে মানুষ বানানো হয়। সেভাবে জীন ভুত তারাতে বৈদ্যরা বাঁশের ছিপা ব্যবহার করে। বাঁশের তাজা পাতা সিদ্ধ করে গাভীর দুধ বাড়ানোর খাদ্য তৈরি করে। বাঁশের শলা দিয়ে কাবাব পোড়ানো, আলু সিদ্ধ, পিঠা সিদ্ধ, দাঁতের খিলাল সহ হাজারো কাজে ব্যবহার হয়।

মিছিল-মিটিংয়ে বাঁশের ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। প্ল্যাকার্ড বহন, ব্যানার টাঙ্গানো, সামিয়ানার খুঁটি হিসেবে বাঁশের ব্যবহার যথেষ্ট। সমাবেশে হামলা হলে কিংবা অপরের সমাবেশ পণ্ড করতে হলে প্ল্যাকার্ডের বাঁশ খুবই কাজে আসে। বর্তমানে কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে বাঁশ চাষ ও সংরক্ষণ করার জন্য অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি পরামর্শ দিচ্ছেন। ছাত্ররা উত্তেজিত হলে দা, ছুরি, তলোয়ারের পিছনে না দৌড়ে, বাঁশ নিয়ে হামলে পড়বে। ফলে নিহতের সংখ্যা কমবে, ছাত্ররাও সহজে উত্তেজনা প্রশমিত করতে পারবে।

মানুষের জীবনের শেষ যাত্রার শেষ উপকরণটির নাম হল বাঁশ। শিশুকালে বাঁশের দোলনা দিয়ে শুরু করে, মরণ কালে লাশ কবরে রাখার পর, দুনিয়ার জীবনের শেষ ছাদখানা নির্মিত হয় বাঁশ দিয়ে। চিতায় লাশ জ্বালানোর সময়, তাড়াতাড়ি ছহি সালামতে লাশকে ছাই বানাতে বাঁশের গুঁতোর বিকল্প নাই। বন্যার পানিতে যখন দেশ সয়লাব হয় তখন নৌকা থাকুক, ভেলা থাকুক, বড় পাতিলে চড়ে কেউ ভেসে থাকুক না কেন, একটিমাত্র বাঁশ ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে। সে সময় হাজার মানুষের সাহায্য ধ্বনি অর্থহীন হয়ে পড়ে একটি মাত্র বাঁশের অভাবে! বেওয়ারিশ ও দুর্ঘটনায় লাশের শেষ বস্ত্র হয় বাঁশের তৈরি চাটাই পোশাক। বাংলাদেশের সকল প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, সেনাপতি থেকে শুরু করে ছাইপোষা কেরানী পর্যন্ত সকলেই তৈলাক্ত বাঁশে বানরের বেয়ে উঠার অংক কষেই শিক্ষিত হয়েছেন।

বাঁশ কোন ফলজ বৃক্ষ নয়, ফুলের জন্য তার কোন সুনাম-সুখ্যাতি নাই। হাজারো নাই’য়ের মাঝেও বাঁশ মানুষের জন্য খুবই দরকারি উদ্ভিদ। প্রচুর বাঁশের উৎপত্তিস্থল হওয়াতে চন্দ্রঘোনায় কাগজের কল প্রতিষ্ঠিত হয়। কাগজ হিসেবে বাঁশের কাগজ সেরা; সুন্দর, উজ্জ্বল ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। বাঁশ সর্বদা কাটতে হয়, যদি রীতিমত কাটা না হয়, হাজারো বাঁশের জন্ম হয়ে মাটি শক্ত ভাবে চিপে যায়, মাটিতে পুষ্টি থাকে না ফলে বাঁশে ফুল চলে আসে; এতে বাঁশ বাগান ধ্বংস হয়ে যায়। বাঁশ নিজের গোড়া থেকে সরাসরি বাচ্চার জন্ম দেয়। মানুষ অন্যান্য গাছের বাচ্চাকে সহজে আদর করতে পারলেও বাঁশের বাচ্চার গায়ে হাত দিলে খবর আছে। শিশু বাঁশের লক্ষ লক্ষ খাড়া লোম, মানুষের দেহে অনায়াসে বিদ্ধ হয়। ডাক্তারের বাপের সাধ্য নাই সে লোম থেকে রোগীকে উদ্ধার করে। তাই তো বনের বানরদের কোন কাজ না থাকলে বাঁশ বনে গিয়ে, শিশু বাঁশ নিয়ে বাঁদরামি আর ফাজলামো করে। পরে কয়েক সপ্তাহ বসে বসে শরীর থেকে তা পরিষ্কার করার আশায় গা চুলকায়।

বাঁশে যখন ফুল আসে, তখন কৃষকদের মাথায় হাত পড়ে, তারা দুর্ভিক্ষের আশঙ্ক্ষায় দুঃচিন্তা গ্রস্থ হয়ে পড়ে। বাঁশে ফুল আসা মানে, সে বনের বাঁশের গোষ্ঠী সমূলে ধ্বংস হওয়া। তারপরের বছর থেকে আর কোনদিন সে বনে বাঁশ জন্মায় না। তাজ্জবের কথা! কৃষকের দুশ্চিন্তা কিন্তু বাঁশের অস্তিত্ব বিলীন নিয়ে নয়, দুশ্চিন্তা অন্য খানে। বাঁশের ফুলের গন্ধে সকল ইঁদুরের দেহে নতুন করে নব যৌবনের জোয়ার আসে। বালিকা, বৃদ্ধা, শিশু, বন্ধ্যা প্রকৃতির সকল ইঁদুরের অসম্ভব প্রকারের প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে যায়, আর পুরুষ ইঁদুরের হয় পোয়াবারো। সে বছর অগণিত ইঁদুরের জন্ম হবে, ইঁদুরের দল পাশের অঞ্চলেও সয়লাব হবে, বাংলা ভাষায় এটাকে ইঁদুর বন্যা বলে। এই ইঁদুর কৃষকের ফসলের মাঠ ও বাড়ীর সম্পদের সর্বনাশ করবে। ইঁদুর শুধু সর্বনাশ করবে না, কৃষকের কিছু উপকারও করবে। তার বিশ্রামের সময়ে বাঁশ বাগানের, বাঁশের পরিত্যক্ত গোড়া গুলো কাটতে থাকে, মাটিতে গর্ত করে, মাটিকে ঝুরঝুর করে। কয়েক বছরের বৃষ্টির পর মাটি উর্বর ও নরম হবে। ইঁদুরের মাধ্যমে ঝুরঝুরে হওয়া মাটিতে, নতুন করে আবার বাঁশ বাগানের জন্ম হবে।

এতো গেল দৃশ্যমান বাঁশের কথা সমাজে অদৃশ্য বাঁশের ব্যবহারও কিন্তু কম নয়। কেউ কাউকে অতিমাত্রায় প্রশংসা করলে সে ব্যক্তিকে বন্ধুরা প্রশ্ন করে, তিনি কি তোমার প্রশংসা করল, নাকি বাঁশ দিল? রাজনীতির মাঠে ময়দানে এধরনের প্রকাশ্য বাঁশ থেরাপি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সবাই একে অপরকে প্রশংসার বাঁশ, উত্তেজনার বাঁশ, গোস্বার বাঁশ দিয়েই চলছেন। যাকে বাঁশ দেয়া হল তার কাছে তো খারাপ লাগবেই, অধিকন্তু যিনি বাঁশ দিয়েছেন তাকেও প্রশ্ন করা হয় আপনি যে বাঁশ দিয়েছেন তা’কি গিরা যুক্ত, নাকি মসৃণ? এটা বাঁশ দেওয়ার পরিমাণ-মাত্রা অনুধাবন করার জন্য জিজ্ঞাসা করা হয়।

বাঁশ দেওয়া, বাঁশ খাওয়া বাংলাদেশে বিব্রতকর হলেও; আরব দেশে বাঁশ দিলে কিন্তু সম্মান ও মর্যাদা দুটোই বাড়ে। কোন ইঞ্জিনিয়ারকে ‘বাশ ইঞ্জিনিয়ার’ বলা হলে তিন খুবই খুশী হন। আবার কোন কর্মকর্তাকে ‘বাশ কর্মকর্তা’ বললে তিনি আবেগে গদ গদ হন। সরকারী কাজে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে, কাজ হাসিল করতে চাইলে ‘বাশ থেরাপি’ দারুণ কার্যকর। হতেও পারে বাশ কর্মকর্তা খুশী হয়ে দুপুরের আপ্যায়ন টুকু ভালমতো করিয়ে দিতে পারেন। তাই বলে সবাইকে বাশ বলতে গিয়ে, অফিস বয়কে বাশ বলে ফেললে কিন্তু হিতে বিপরীতও হতে পারে। লোক কথায় আছে বাশের তৈরী বাঁশির সুরে নাকি জ্বীন, পরী, সাপ পর্যন্ত ঘর ছাড়ে। তবে মর্তের বহু মানুষ যে বাঁশির সুরে ঘর ছেড়েছে তার প্রমান তো অহরহ আছে। ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া আর পল্লীগানের প্রধান যন্ত্রের নাম বাঁশের বাঁশি। ভগবান শ্রী কৃষ্ণ তো বাঁশের বাঁশির সূর দিয়েই বৃন্দাবনকে মাতিয়ে রাখতেন। মানবজাতিকে দুনিয়ার মোহে আবদ্ধ রাখতে শয়তানের প্রধান অস্ত্রের নামই নাকি বাঁশের বাঁশি!

জাতীয় বৃক্ষ তো সেটাই হওয়া উচিৎ যেটা আমাদের জাতীয় চরিত্র, জাতীয় জীবনকে সবচেয়ে গভীর ভাবে রিপ্রেজেন্ট করে নাকি? সে হিসেবে জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে আমগাছের চেয়ে বাঁশ আমাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিৎ। যদিও উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দিক থেকে বাঁশকে বৃক্ষ বলা যায় না। বাঁশ আসলে ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। বলা হয় সবচেয়ে বড় ঘাস হচ্ছে বাঁশ। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসেনা। কিছু কিছু বাঁশ আছে যা বৃক্ষ থেকে কোন অংশে কম নয়। আর ব্যবহারিক দিক চিন্তা করলে জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে বাঁশের চেয়ে উপযোগী আর কিছু নেই। জাতীয় জীবনে বাঁশের গুরুত্ব: আমাদের জাতীয় জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে আছে বাঁশ। বাঁশ ছাড়া আমাদের রাজনীতি অচল। আমরা একে অপরকে প্রতিদিন বাঁশ দিয়ে চলেছি। ম্যাডাম , আপাকে কী বাঁশটাই দিলেন গত পাঁচ বছর! আর আপার বাঁশ তো ম্যাডামকে কাঁদিয়েই ছাড়ল। আগামী তিন বছর ম্যাডাম আরো কত বাঁশ খান সেটা সময়ই বলে দিবে। ম্যাডাম, আপা ছাড়াও কে কাকে বাঁশ দেননা বলতে পারেন? আমরা সবাই সবাইকে সবসময় বাঁশ দিয়ে চলেছি। একজন তো বিশেষ একজনকে বাঁশ দেওয়ার জন্য দু দুটো পত্রিকাই খুলে বসেছেন। এরকম উদাহরণ দিতে থাকলে কী বোর্ডের বোতাম ক্ষয়ে যাবে উদাহরণ শেষ হবেনা। তো চলেন আওয়াজ তুলি জাতীয় বৃক্ষ করতে হবে বাঁশ, শুধুমাত্র বাঁশকে!

তিতুমিরের নাম শোনেননি এমন ব্যক্তি বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। তাঁর সাথে আমাদের Formal পরিচয় হয় ক্লাস সেভেনে… সামাজিক বিজ্ঞান নামক বিরক্তিকর একটা সাবজেক্টে। সেই আমলের একটা খুব ইম্পরট্যান্ট প্রশ্ন ছিল “তিতুমির কেন বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছেন?”। আজও এই প্রশ্নের কথা মনে পরলে কচি বাঁশের কথা মনে পরে। তবে এর আগে তিতুমিরের জীবন ও তাঁর স্বাধীন চিন্তাচেতনার কিছু ক্ষুদ্র বর্ণনা শুনে আসি…

মীর হাসান আলী এবং আবিদা রোকেয়া খাতুনের পুত্র তিতুমিরের আসল নাম মীর নিসার আলী। তিনি জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরূদ্ধে সংগ্রাম ও তাঁর বিখ্যাত বাঁশের কেল্লার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু এতো কিছু থাকতে তিনি কেন কেল্লা বানাতে বাঁশের উপর ভরসা করলেন তাই আমাদের আলোচ্য গবেষণার বস্তু।

সেই আমলে 9mm, AK47, shotgun ইত্যাদি অস্ত্রের সাথে বাঙ্গালিরা পরিচিত ছিল না। গ্রামের পথেঘাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঁশই ছিল তাদের প্রধান অস্ত্র। তাই ইংরেজদের কামানগোলার বিরুদ্ধে বাঁশই বাঙ্গালিদের বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিল, দেখিয়েছিল এক স্বাধীন দেশের স্বপ্ন যেখানে থাকবে না কোন বাঁশাবাঁশি, থাকবে শুধু হাসাহাসি, কাশাকাশি আর মানুষের পাশাপাশি বসবাঁশ ছরি বসবাস।

তিতুমির ছিলেন দূরদর্শী। বাঙ্গালিদের একত্র করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সচেতন করার জন্য তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে নিজহস্তে বাঁশ তুলে নেন ও সবার হাতে বাঁশ তুলে দেন। যখন বাঙ্গালিরা হাতে বাঁশ ধারন করত তখন তাদের কাছে মনে হত যে তাদের হাতে আছে পারমাণবিক বোমার রিমোট কন্ট্রোলার। যে কোনো সময় শুধু বাটন প্রেস করবে আর ইংরেজ জাতি হয় মাটির তিনহাত নিচে চলে যাবে, নয়তো সরাসরি ঊর্ধ্বগগণে। এই বাঁশের কারণেই তিতুমীরের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে এক সময় ৫,০০০ গিয়ে পৌঁছে।

তিতুমির ছিলেন জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান ও পালোয়ান হিসেবে তাঁর ব্যাপক সুনাম ছিল। আর এই লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান অস্ত্র ছিল বাঁশ। তাই বাঁশের ক্ষমতা যে কত ভয়াবহ হতে পারে তা সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। তাই গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের উপর জমিদার এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি বাঙ্গালিদের সংঘবদ্ধ করেন এবং হাতে বাঁশ তুলে নেন।

তিতুমিরের বাঁশের অনুপ্রেরণায় বহু বাঙালি হাতে বাঁশ তুলে নেয় ও ইংরেজদের বাঁশ দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। তখন তিনি বর্তমান চব্বিশ পরগণা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ন অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় জমিদারদের নিজস্ব বাহিনী এবং ব্রিটিশ বাহিনী তিতুমীরের হাতে বেশ কয়েকবার পরাজয় বরণ করে। সেই প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধকে মহাপ্রলয়ঙ্করী রূপ দেয়ার জন্য এবং তাঁর বাহিনীর নিরাপত্তা, অস্ত্রশস্ত্র (মানে বাঁশ) মজুদ ও বাহিনীকে রণকৌশল প্রশিক্ষণের জন্য ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবর বারসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন। বাঁশ এবং কাদা দিয়ে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এই অপূর্ব কেল্লা নির্মাণ করেন তিনি।

তিতুমির যখন বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন তখন সেই বাঁশের কেল্লা দেখে ইংরেজরা কেল্লাফতে যান এবং ইংরেজ বাহিনীতে চিল্লাচিল্লি শুরু হয়ে যায়। অনেক কিলাকিলি-মারামারি হওয়ার পরও যখন ইংরেজরা তিতুমিরের হাতে বারবার বাঁশ খাচ্ছিল তখন বাঁশের কেল্লার দিকে মুখ তুলে তাকালেই তাদের আত্মা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠত ও গত যুদ্ধে খাওয়া কাঁচাপাকা বাঁশের কথা মনে হত।

অবশেষে ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর কর্নেল হার্ডিং-এর নেতৃত্বে ব্রিটিশ সৈন্যরা ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও কামানগোলা নিয়ে তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীদের অাক্রমণ করে। তিতুমির তাঁর অনুসারীদের নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, কিন্তু কামানগোলার আঘাতে তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। যেই যুদ্ধে বাঁশের বিরুদ্ধে ইংরেজদের কামানগোলা ব্যবহার করতে হয়, সেই যুদ্ধে বাঁশ কত বড় একটা অস্ত্র ছিল তা বলা বাহুল্য। অবশেষে ১৯শে নভেম্বর তিতুমীর নিহত হন। তাঁর বাঁশের কেল্লা ধ্বংস করে দেয়া হয়।

এই বাঁশ যদি না থাকতো তাহলে বাঙালি অনুপ্রেরণার অভাবে তিতুমির এতদূর আসতে পারত না, পারত না ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে। তিতুমিরের এই বিদ্রোহ পরবর্তীতে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। অপর কথায় বলা যায় বাঁশই আমাদের স্বপ্নদ্রষ্টা, আমাদের একমাত্র অস্ত্র যার প্রতিটি গিঁটে গিঁটে রয়েছে পরাধীনতার শিকল ভাঙার উচ্ছ্বাস। তাই আজ যেকোনো আপদে-বিপদে আমরা বাঁশকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি ও অত্যাচারীকে বাঁশ দেয়ার হুমকি দেই। তাই বাঁশ থাকুক আমাদের জীবনে-মরণে, সয়ন-স্বপনে, ঘুম কিংবা জাগরণে…

Top