ঢাকা, ||

‘ইউএনওর জামিন নামঞ্জুর হয়নি, হাজতে পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না’


আইন আদালত

প্রকাশিত: ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

মানহানির মামলায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের জামিনের আবেদন একটিবারের জন্যও নামঞ্জুর করা হয়নি বলে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মোহাম্মদ আলী হোসাইন।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দপ্তরে আজ রোববার সংশ্লিষ্ট ওই মামলার নথি এবং এই ব্যাখ্যাসহ ওই চিঠি এসে পৌঁছায়। ব্যাখ্যায় বিচারক বলেছেন, ‘আদালতের কার্যপ্রণালি শেষে এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় এলে শুনি ইউএনও সাহেবের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে মর্মে অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ইউএনও সাহেবের জামিনের আবেদন একটিবারের জন্যও নামঞ্জুর করা হয়নি। ফলে জেলহাজতে প্রেরণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’

সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র ও ব্যাখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, গত দুই দিন ধরে ওই বিষয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ অবস্থায় সঠিক তথ্য জানতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। স্ক্যান করে ওই মামলার নথি পাঠিয়েছেন বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম। সঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। সোমবার বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে মূল নথি পাঠাবেন। ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউএনওর জামিন নামঞ্জুর করা হয়নি। জামিন নামঞ্জুরের ঘটনা ঘটেনি বলে নথি পর্যালোচনায়ও দেখা যায়।

ব্যাখ্যায় বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন বলেছেন, ‘শুনানি চলাকালে উৎসুক জনসাধারণের রোষানল হতে ইউএনও সাহেবের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমি শুনানি মুলতবি করি এবং ইউএনও সাহেবের কৌঁসুলির নিবেদন অনুসারে কাগজাত দাখিল করতে বলি এবং আরও মৌখিক আদেশ দিই যে কাগজাত দাখিলের পরে পুনরায় শুনানি হবে। আমি তখন ইউএনও সাহেবকে আদালত কক্ষে বসতে বলি। আদালতে কর্তব্য পালনরত পুলিশ সদস্যরা ইউএনও সাহেবের সার্বিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। ইউএনও সাহেবকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে আদালতের কক্ষে বসানোর জন্য আদালত কক্ষের এক দরজা দিয়ে বের হয়ে বারান্দা ব্যবহার করে অন্য দরজা দিয়ে আদালত কক্ষে আনতে হয়েছে। এই সময়ে মিডিয়ার কর্মীরা বা অন্য কেউ কোনো ছবি তুলেছেন কি না, তা অবলোকন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এই সময়ে কী সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা-ও আমি বিচারকার্য পরিচালনাধীন থাকায় জানতে পারিনি।’

জামিন মঞ্জুর বিষয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘অতঃপর ইউএনও সাহেবের পক্ষে কাগজাত হলে এবং উত্তেজনার পরিস্থিতির অবসান হলে জামিনের দরখাস্ত এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারার দরখাস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া পালনপূর্বক মঞ্জুর ক্রমে সসম্মানে জামিন প্রদান করা হয়। আরও বলা হয়, ইউএনওর আদালত কক্ষ ত্যাগের পরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিত পরিহারের জন্যই আমি তৎক্ষণাৎ জামিনের দরখাস্তের আদেশ না দিয়ে কাগজাত দাখিল হলে শুনানি শেষে আদেশ দেব বলে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি।’

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে পাঠানো দুই পৃষ্ঠার চিঠির শুরুতে বলা হয়, ‘এই আদালতে বিচারাধীন (সিআর-৪২৭/২০১৭, কোতোয়ালি) মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকা আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমনের জামিন মঞ্জুর প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নমুখী সংবাদ, মন্তব্য ও মতামত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ প্রকাশ করায় ওই মামলায় তাঁর (ইউএনও) জামিন শুনানিকালে গৃহীত আইনানুগ পদক্ষেপগুলো গোচরীভূত করার জন্য তুলে ধরা হলো।’

বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসাইন চিঠিতে বলেছেন, ‘মামলাটির শুনানিকালে ফরিয়াদি আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ সাজু (সভাপতি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি) নিজে এবং তাহার পক্ষে উপস্থিত থাকেন বর্তমান সাংসদ এবং আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আইনজীবী তালুকদার মো. ইউনুছ (যিনি শুনানি শেষ করে আদালতের আদেশ প্রদানের পূর্বে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন), সাবেক সাংসদ আইনজীবী আবদুর রশিদ, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শেখ আবদুল কাদের, আইনজীবী আনিছ উদ্দিন আহম্মদ শহীদসহ প্রায় ৫০-৭০ জন আইনজীবী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোখলেছুর রহমান।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের কৌঁসুলি নিবেদন করেন যে, ইউএনও সাহেব প্রথম আমন্ত্রণপত্রের পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি আমন্ত্রণপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় ব্যবহার করে আরেকটি আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছেন এবং পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন। শুনানি চলাকালে আদালত কক্ষে যেমন আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল, তেমনিভাবে আদালতের বারান্দা এবং সংলগ্ন রাস্তায় উৎসুক জনসাধারণসহ মিডিয়ার কর্মীদের উপস্থিতিতে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান ছিল।’

প্রথম আলো

Top