ঢাকা, ||

আমি কামরুলকেই ভালোবাসি, কামরুলই আমার স্বামী


সাব লিড নিউজ

প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

‘রাসেলের সঙ্গে বিয়েতে রাজি হইনি। নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক আমার দস্তখত আদায় করা হয়। এরপর বিয়ে দেয়া হয়। আমি কামরুলকেই ভালোবাসি। কামরুলই আমার স্বামী।’ গতকাল সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলে সিলেটের আলোচিত আমেরিকান কন্যা রোহিনা বেগম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেইন মো. হাই জকি তার কথা শুনে এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটে দেয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে রোহিনাকে নিজ জিম্মায় মুক্তি দিয়েছেন।

গতকাল বিকালে মুক্তি পাওয়ার পর সে তার স্বামী কামরুলের সঙ্গেই চলে গেছে বাড়িতে। রোহিনার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদ জানিয়েছেন- রাসেলের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার বিষয়টি আদালতে জানিয়েছে রোহিনা নিজেই। পাশাপাশি তাকে যে নির্যাতন চালিয়ে রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছে সেটিও আদালতে জানিয়েছে রোহিনা। এ কারণে আদালত রোহিনাকে গতকাল নিজ জিম্মায় মুক্তি দিয়েছেন। সিলেটের আমেরিকান কন্যা রোহিনার বিয়ে নিয়ে নানা নাটক হয়েছে তার পরিবারের মধ্যেই।

রোহিনা ও কামরুল সম্পর্কে তালতো ভাই-বোন। তাদের প্রেম দীর্ঘ দিনের। রোহিনা আমেরিকা থাকাকালে তাদের মধ্যে ইমো, ফেসবুক, ভাইবারের মাধ্যমে কথা-বার্তা হতো। আর গেলো বছরের শেষ দিকে যখন রোহিনা দেশে আসে তখন থেকেই তাদের প্রেম আরো গভীর হয়। বিষয়টি কামরুলের বোন লাকী বেগম সব জানতেন। এবং তিনি তাদের ভালোবাসাকে সমর্থন দিয়ে যেতেন। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে যখন রোহিনার বিয়ের কথাবার্তা শুরু হয় তখন বাদ সাধেন রোহিনার বাবা নইম উদ্দিন। তার ইচ্ছা ছিল নিজের কোনো ভাতিজার সঙ্গে রোহিনার বিয়ে দিয়ে কাউকে আমেরিকা নেবেন। তাদের পারিবারিক ভাবে এ নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। এ কারণে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে রোহিনা সবার অজান্তেই কামরুলের সঙ্গে ঘর ছাড়ে। এবং ৯ই ডিসেম্বর তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। রোহিনা ও কামরুল যখন পলাতক তখন পিতা নইম মিয়ার অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার হন কামরুলের বোন ও রোহিনার ভাবি লাকী বেগম।

এর প্রেক্ষিতে রোহিনা পলাতক অবস্থা থেকে প্রকাশ্য এসে ১২ই ডিসেম্বর সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আর জবানবন্দিতে রোহিনা জানায় সে স্বেচ্ছায় কামরুলকে বিয়ে করে তার ঘরে উঠেছে। তাকে অপহরণ করা হয়নি। এর প্রেক্ষিতে রোহিনা বেগম নিজ জিম্মায় মুক্তি পান এবং কারাগারে থাকা লাকি বেগম জামিন পান। পাশাপাশি কামরুলসহ অন্যরাও এই মামলায় জামিন পান। এরপর রোহিনার ভাই শিবলু আহমদ দেশে এসে রোহিনাকে পিতার বাড়ি নিয়ে আসেন।

আর ওখানেই তার কাছ থেকে ডিভোর্সে সই নেয়ার পর জোরপূর্বক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি জানার পর কামরুল ইসলাম বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে আদালত রোহিনাকে উদ্ধার করতে সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করেন। এবং ওই ওয়ারেন্ট বলেই রোহিনাকে রাসেলের বাড়ি থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে জানান রোহিনার নিযুক্ত আইনজীবী সৈয়দ মহসিন আহমদ। তিনি জানান- ৫ই এপ্রিল রোহিনাকে আদালতে হাজির করা হলে তখনই প্রমাণিত হয় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সে চিকিৎসা নিয়েছে। রোহিনার আরেক আইনজীবী সৈয়দ মাসুদ হাসান জানিয়েছেন- রোহিনাকে কামরুলের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। রোহিনার সঙ্গে রাসেলের  বিয়ে বৈধ নয়। কারণ- রোহিনার কাছ থেকে জোরপূর্বক ডিভোর্স পেপারে স্বাক্ষর নেয়া হয়। আর ওই ডিভোর্সের কপি কামরুল গ্রহণ করেননি।

ফলে রোহিনা ও কামরুলের বিয়ে বহাল রয়ে গেছে। বরং রোহিনাকে যে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয়েছে সেটি অবৈধ বিয়ে। আদালতের মাধ্যমেই ওই বিয়েতে সংশ্লিষ্ট সবার বিচার দাবি করেছি আমরা। তিনি বলেন- পুলিশ রোহিনাকে উদ্ধারের পর সিলেটের আদালতে কামরুল, রোহিনাসহ সবার বিরুদ্ধে সিআর মামলা করেছিলেন রাসেলের ভাই জাভেদ। ওই মামলা আদালত শুনানি শেষে খারিজ করে দেন। এরপর গোয়াইনঘাট থানায় কীভাবে মামলা করা হলো সেটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়টিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রোহিনার আইনজীবীরা জানিয়েছেন- রোহিনা ও কামরুল একে অপরকে ভালোবাসে। তারা প্রাপ্ত বয়স্ক।

এ কারণে তাদের বিয়েও বৈধ। এরপর জোরপূর্বক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে কীভাবে বৈধ হয়। এসব বিষয় তারা গতকাল সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করেন। এ সময় রাসেলের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনিও শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে এবং সার্বিক পর্যালোচনা করে ১৬ দিন পর রোহিনাকে নিরাপত্তা হেফাজত থেকে নিজ জিম্মায় জামিন দিয়েছেন। আর জামিন পেয়ে রোহিনা তার বৈধ স্বামী কামরুলের সঙ্গেই চলে গেছে।

Top