ঢাকা, ||

আটঘর-কুড়িয়ানার ভাসমান বাজার,পর্যটন এলাকা হিসেবেও পরিচিতি বাড়ছে


এক্সক্লুসিভ

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

আটঘর-কুড়িয়ানা থেকে ঘুরে এসে  নাঈম ইসলাম: বাঙ্গলার প্রকৃত অপরুপ সৌন্দার্য আর পেয়ারার সমাহার বিখ্যাত ঝালকাঠির ভীমরুলি, বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারার বাগান ।শুধু পেয়ারার বাগানই না এখানে রয়েছে লেবু,আমড়াসহ বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান,আর ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট-বাজার।নদী-খালের বরিশালে, এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নদী-খাল নির্ভর।ফল চাষীরা তাই তাদের ফল কেনা বেচার জন্যই বেচে নিয়েছে খাল-বিলের ভাসমান এ বাজারকে।সূর্য উদয়ের আগেই ফল চাষীরা গাছ থেকে ফল সংগ্রহ শুরু করে,সূর্য উদয়ের পরপরেই চাষীরা ছোট ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ফল বিক্রি করতে আসে আটঘর ও ভীমরুলির ভাসমান এ বাজারে।আটঘর ও ভীমরুলির এ খাল-নদীর ভাসমান বাজার বছরের পর বছর ধরে চালু রয়েছে ।মৌসুম অনুসারে নানা মৌসুমি ফলের কদরে এসব হাট সারা বছরই থাকছে জমজমাট।ভাসমান এসব হাটের পাশাপাশি নদীর সৌন্দর্য ও সবুজ ফলের বাগান দেখতে এসেও মুগ্ধ হচ্ছেন অনেকেই।বর্ষাকালে দখিনের নদী-খাল-বিল পানিতে থাকে টইটম্বুর। রুপসী বাংলায় বর্ষার অপরুপ সৌন্দর্য দেখার উপযুক্ত সময়ই এখন।আর তাই খাল-বিলের ভাসমান হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদেরও ভিড়ও বেড়েছে অনেক।বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চল ছারাও বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকেও ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট ও ছোট ছোট নদী খালের প্রকৃতি সৌন্দার্য উপভোগ করতে আসছেন পর্যটকরা।পর্যটকদের নদী-খালের অপরুপ সৌন্দর্য দেখার জন্য নৌকার পাশাপাশি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।ঘুরতে আসা সকলেই নদী-খালের প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দার্যে মুগ্ধ হচ্ছেন।এদিকে পেয়ারাচাষীদের বেচাকেনা ও পর্যটকদের ঘোরাঘুরিতে উৎসবমুখর দিন কাটাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষগুলো।ভাসমান এ হাট ও পর্যটকদের পুজী করে জীবিকানির্বাহ করছেন অনেকেই।স্থানীয়রা জানায়,আগে হাট-বাজারে শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ছিলো এখন পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ছে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবী মানুষের ভিড়ে জমজমাট থাকে এ অঞ্চল। স্থানীয় অনেকেই ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়ায় খাটিয়ে কিংবা হাট কেন্দ্রিক খাবারের দোকান দিয়েও ভালো আয় করছেন।ফলচাষীরাও ভালো দাম পেয়ে খুশি  পেয়ারার আকার ও মানের উপর পাইকারি ব্যবসায়ীরা মণপ্রতি দাম দিচ্ছেন আড়াইশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ টাকা পর্যন্ত।আর সেই পেয়ারা চলে যাচ্ছে ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়।এভাবেই ফলের এ মৌসুমে ফলচাষী ও পাইকারি ব্যাবসায়ীদের কেনাবেচা এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের ভ্রমনে জমজমাট থাকে এ অঞ্চলটি।এখানে থাকার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই,স্থানীয় প্রশাসন যদি এদিকে খেয়াল নেয় এবং পর্যটককেন্দ্রিক গড়ে তোলার জন্য করনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে তাহলে শুধু বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট-বাজার হিসাবে পরিচিত লাভ করবেনা পর্যটন এলাকা হিসাবেও ব্যপক পরিচিত লাভ করবে বলে ধারনা অনেকেরি।

Top