ঢাকা, ||

আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী


রাজনীতি

প্রকাশিত: ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

আজ ‌১ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠাতা।

জাতীয়তাবাদী দর্শন নিয়ে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা রেস্তোঁরায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি গঠন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একই বছর তাঁরই হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। বিএনপি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যায় জাগদল।

বর্তমানে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বিএনপির সমন্বয়ক ও প্রথম চেয়ারম্যান। অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন দলের প্রথম মহাসচিব।

বিএনপির ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য, ব্যাপক জনভিত্তিক গণতন্ত্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত জনগণের অক্লান্ত প্রয়াসের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রগতি অর্জন এবং সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ আধিপত্যবাদের বিভীষিকা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বিএনপি গঠিত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে জিয়াউর রহমান প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ৭৬ সদস্য আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় বিএনপি। ওই নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে দলটি। ওই নির্বাচনে ৩৯টি আসন পেয়ে বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ (মালেক)।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে বিপথগামী একদল সেনাসদস্যের গুলিতে শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দলের কর্মীদের দাবি ও শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে রাজনীতিতে আসেন জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। পরের বছর দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন খালেদা জিয়া।

১৯৮৪ সালে ১০ মে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া ও তাঁর দল বিএনপি এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ওই আন্দোলনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের আপস না করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এগিয়ে যায় বিএনপি।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি। ১৪০টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিএনপি। খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হয় বিএনপি। ওই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পাস করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন এ দলটি। পরে একই বছর সংসদ ভেঙে দিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

একই বছর অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যায় বিএনপি। ১৯৯৯ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত হয় চার দলীয় জোট। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। খালেদা জিয়া আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপি। পরে খালেদা জিয়াসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যেও কোন্দল দেখা দেয়। এ সময় দলের মধ্যে নানা ষড়যন্ত্রও শুরু হয়। তবে তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব) হান্নান শাহসহ শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়ে আসেন। ২০০৮-এর সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৯টি আসন পায় বিএনপি।

২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সরকারের সময় খালেদা জিয়ার কারারুদ্ধ হওয়া এবং দল ভাঙনের চেষ্টা সংকটে ফেলে বিএনপিকে। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দু’দফা আন্দোলনের ব্যর্থতা, শীর্ষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মামলা আর গ্রেপ্তার দলটির সামনে এনে দাঁড় করায় কঠিন বাস্তবতা।

বর্তমানে নির্বাচনে সহায়ক সরকার দাবি করছে বিএনপি। এরইমধ্যে ভিশন ২০৩০ ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দেশে এসে আগামী নির্বাচনের রূপরেখাও দেবেন তিনি।

Top